© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘গাজাকে বাঁচতে দাও’, জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন:
‘গাজাকে বাঁচতে দাও’, জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩২ এএম | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যখন জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিবাদে কয়েক ডজন কূটনৈতিক প্রতিনিধি ওয়াকআউট করেন, ঠিক তখনই সদর দপ্তরের বাইরে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকা ও জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

এদিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হন ইহুদি, ফিলিস্তিনি, ইরানি ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত শত শত নিউইয়র্কবাসী। 'বোমা নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ব্যয় করুন লেখা টি-শার্ট পরে এবং 'গাজাকে বাঁচতে দাও' স্লোগান দিয়ে তারা এক ঘণ্টারও বেশি সময় রাজপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে জাতিসংঘগামী সরকারি গাড়িগুলো বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা 'গণহত্যা বন্ধ করো' লেখা ব্যানার প্রদর্শনের পাশাপাশি ফ্রি প্যালেস্টাইন' লেখা ঘুড়ি ওড়ান। মূলত ঘুড়ি ওড়ানো ফিলিস্তিনি শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে- চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলের এমন হুমকির প্রতিবাদেই প্রতীকীভাবে এই ঘুড়ি ওড়ানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে আরও কয়েক হাজার মানুষের একটি বিশাল মিছিল জাতিসংঘের দিকে অগ্রসর হয়ে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়।

এর আগে বুধবার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমানে করে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাঠানোর প্রতিবাদেও বিক্ষোভ হয়েছিল।

পুলিশের সরে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করে রাজপথে অবস্থান নেওয়ায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুজান সারান্ডন, হান্না আইনবাইন্ডার, ডেবরা উইঙ্গার, মডেল ও অভিনেত্রী ইন্ডিয়া মুর, হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, কমেডিয়ান ক্যালেব হিরন, লেখক গ্লেনন ডয়েল, ডেভিড ভ্যালেস্কো, র‍্যাবাই অ্যাবি স্টেইন এবং মানবাধিকারকর্মী লিন্ডা সারসুরসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার আগে অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার বলেন, একজন ইহুদি, আমেরিকান এবং মানুষ হিসেবে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়া তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিনে গণহত্যায় মার্কিন সরকারের অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান তিনি।

বিক্ষোভের সমন্বয়কারী সংস্থা 'জিউইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন'-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, গত তিন বছরে গাজায় ৭৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়েও অনেক কম। নিউইয়র্কবাসী কোনো যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার পরিকল্পনাকারীকে তাদের শহরে দেখতে চায় না বলে স্পষ্ট জানান তিনি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের নাস ইসা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে তাদের পেশিশক্তি এবং অবৈধ যুদ্ধের নীতি চাপিয়ে দিচ্ছেন।

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দায়মুক্তি ভোগ করছে, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে তা চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবারের এই বিক্ষোভে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন জনমত ও রাজনীতির পরিবর্তনের চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে চলতি বছর প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হওয়া বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ব্র্যাড ল্যান্ডার, দারিয়ালিজা আভিলা শ্যভালিয়ের, ক্রিস র‍্যাব, অ্যাডাম হামাউই ও মেলাত কিরোস অন্যতম। বিক্ষোভ থেকে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে, টিফানি কাবান, কংগ্রেস প্রার্থী শ্যভালিয়ের এবং আগামী নভেম্বরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হতে যাওয়া আবের কাওয়াসসহ অন্তত ১০ জন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীকে আটক করে পুলিশ। ২০২৪ সালে গাজায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসা সেনা চিকিৎসক ও প্রার্থী অ্যাডাম হামাউই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের উচিত ছিল নেতানিয়াহুকে দ্য হেগের আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা, অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নয়।

এদিকে এই বিক্ষোভ নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির জন্যও এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং নেতানিয়াহুকে 'যুদ্ধাপরাধী' আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিলেন মামদানি। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি স্বীকার করেন যে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি এখতিয়ার তার নেই এবং এ বিষয়ে ফেডারেল সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবারের আটকের বিষয়ে মেয়রের দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও, এর আগে মামদানি স্পষ্ট করেছিলেন যে সংবিধান অনুযায়ী নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তার প্রশাসন সেই অধিকারকে সম্মান করে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন