© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কঙ্গোর হ্রদে নৌকাডুবিতে নিহত ৪১

শেয়ার করুন:
কঙ্গোর হ্রদে নৌকাডুবিতে নিহত ৪১

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৭ এএম | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে তানগানিকা হ্রদে যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এখনো কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, তানগানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন।

তাদের সঙ্গে পণ্যও ছিল। কঙ্গোর মাপেরা গ্রামের কাছে তানগানিকা হ্রদে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি বৃহস্পতিবার তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী অ্যানি মোয়োনি রেডিও ওকাপিকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানান। জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত এই সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগানো হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। এরপর কীভাবে নৌকাটি পুরোপুরি ডুবে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় নৌপথে যাতায়াত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষের জন্য নৌকায় যাতায়াতই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও কম খরচের উপায়। তবে দেশটিতে নৌযান চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। এপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গোতে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষ মারা গেছেন। অনেক সময় নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়। আবার বেশ কিছু নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটও থাকে না। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। দেশটির জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এত বড় জনসংখ্যার তুলনায় সড়কসহ অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক মানুষকে যাতায়াতের জন্য নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়।

কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট কঙ্গোর একটি নৌযান কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। পরে নৌকাটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় নৌকাটির ছয়জন কর্মী মারা যান। আরো একজন নিখোঁজ হন। এমভি প্যাসিফিক নামের ওই নৌকাটি কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত। নৌকাটি মূলত জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহার করা হতো। এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য কঙ্গোতেও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন মারা যান।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন