© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় লাগাম

শেয়ার করুন:
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় লাগাম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৮ পিএম | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করছে দেশটির সরকার। স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।

এই অধ্যাদেশ পাসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলোনি লেখেন, ‘‘নতুন নিয়মে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় অপর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ভাষা শেখার পরিধি বৃদ্ধি এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’’

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো শিশু স্কুলে খাপ খাইয়ে কিংবা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি সামাজিক সেবা সংস্থাকে জানানো হবে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে আয়োজিত ইতালীয় ভাষার ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো (প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে।

অভিবাসনে ইউরোপের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতালিতে অভিবাসীদের সামাজিক মেলবন্ধন ও একীভূতকরণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেবল জাতীয়তা বা ইতালীয় ভাষায় দুর্বলতার কারণে শিশুদের স্কুল বদলাতে বা সহপাঠীদের থেকে আলাদা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বাধ্য করা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির মতো সামাজিক বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

তবে এই সমালোচনার জবাবে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেন, ভাষাগত দক্ষতার অভাব শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। তিনি বলেন, সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্যের জন্য পাঠ্যক্রমে বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।

দেশটির এই শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইতালির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে তাদের বড় অংশের ওপর এই আইনটি কার্যকর হবে না। কারণ আইনটি নতুন আসা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে; ইতালিতে জন্ম নেওয়া কিংবা এখানকার কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করা শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

এর আগে ২০১০ সালে ইতালির শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর একটি অনানুষ্ঠানিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও ওই নিয়ম তুলনামূলক কিছুটা নমনীয় ছিল। ইতালিতে জন্ম নেওয়া কিংবা উপযুক্ত ভাষাদক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা বাড়ানো যেত, আর ভাষাজ্ঞান কম থাকলে তা কমিয়ে দেওয়া হতো।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কোমলমতি শিশুদের ওপর নতুন ‘ডাইনি শিকার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির বিরোধীদলীয় নেত্রী এলিসা চেলেইন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বোরকা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন কোনো নারীকে বা তার চেয়েও দুঃখজনক, কোনো অল্পবয়সী মেয়েকে; মুখ ঢাকতে বাধ্য করা হয়, তখন তার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং যে সামাজিক একীভূতকরণের কথা উচ্চস্বরে বলা হয়, তা ব্যর্থ হয়।

গত জুলাইয়ে ইতালির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলে। ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থাকা এই কট্টর ডানপন্থী দলটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর জনমত জরিপে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে মেলোনি সরকারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সূত্র: এএফপি।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন