জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পুলিশকে জনআস্থা অর্জন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৪ পিএম | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পুলিশকে জনআস্থা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদারিত্ব কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পদকপ্রাপ্তি শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং এটি দেশের ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি উদ্ধার ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা অর্জন। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এমন এক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, যে বাহিনী হবে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ়, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ এবং জনগণের একান্ত আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক।’
তিনি এটিকে নিছক বক্তৃতা হিসেবে অভিহিত না করে গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে ব্রতী হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনি সংস্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জন-আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রেখে র্যাবসহ (বর্তমানে এসআরবি) বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার ও আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও আধুনিকায়ন করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তাদেরকে ক্ষেত্রমতে প্রয়োজনীয় তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।’
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম। মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন ও জনসেবা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন কৃতি সদস্যের হাতে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বিপিএম-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘পিপিএম-সেবা’ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যগণ ও তাদের পরিবারবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/টিএ