রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাটের পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৮ পিএম | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সময়মতো পদক্ষেপ না নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। এর পরপরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারের পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপির জারি করা ওই অফিস আদেশে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রশাসনিক কারণে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার রাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি মিডিয়া আ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার আখতার হোসেন। আজ রবিবার এক বার্তায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পরদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আরো অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এসএন