ভারতে মিগ-২৩ যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫২ পিএম | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পাঞ্জাবে লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিউ) বিক্ষোভের সময় এক শিক্ষার্থী ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ ইউএম যুদ্ধবিমানের ওপর উঠে পড়েন। একই সময়ে প্রায় ১০ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে স্থাপিত একটি সামরিক ট্যাংকের ওপরও দেখা যায়। ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। তবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি; পুলিশ তদন্ত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগটিকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছে।
ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভে জড়ো হন। ক্যাম্পাসে থাকা এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, ২৪ সেপ্টেম্বর জি-৩ হোস্টেলে থাকা ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় একজন প্লাম্বার বা নির্মাণকর্মী জড়িত ছিলেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
তবে অভিযোগটি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে ফরেনসিক, সিসিটিভি ও ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে। ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার মেজর সিং এই দলের নেতৃত্ব দেবেন।
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। কোথাও জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের কিছু অংশ ও বিভিন্ন বস্তুতে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। ক্যাম্পাসের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও কিছু দাবি রয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রীদের হোস্টেলে শুধু নারী কর্মী রাখার দাবিও রয়েছে। এসব দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এলপিইউর রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কোনো সত্যতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করেছে, ‘সমাজবিরোধী কিছু ব্যক্তি’ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে এসব দাবি বিশ্বাস বা প্রচার না করার এবং শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরআই/টিএ