© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হোয়াইট হাউসে শিকে ট্রাম্পের প্রশ্নচীন কিছু মার্কিন অস্ত্র কিনতে চায় কি না?

শেয়ার করুন:
চীন কিছু মার্কিন অস্ত্র কিনতে চায় কি না?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩২ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথেয়তা দেয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে রোববার জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

ডেভিড পারডু রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শিকে সরাসরি জিজ্ঞেসও করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে চান কি না।’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওয়াশিংটনে শির সফরের সময় ট্রাম্প যে ‘অসাধারণ মাত্রার সৌজন্য’ দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা করে।

তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ময়কর দাবি সামনে আসে। কয়েক মাস ধরে তাইওয়ান ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজের জন্য। গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের রেকর্ড অস্ত্র বিক্রির চুক্তি ঘোষণার পর নতুন এই প্যাকেজের কথা সামনে এসেছে।

তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অঙ্গীকারের মাত্রা নিয়ে এর আগে প্রশ্ন উঠেছে। মে মাসে বেইজিংয়ে শির সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটি স্থগিত রেখেছেন। চীনের সঙ্গে আলোচনায় এটিকে তিনি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

চীনের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখে আসছে। তবে কয়েক দশক পুরোনো তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, তাইপেকে আত্মরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বেইজিং বারবার বলে আসছে, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় তারা ‘দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা’ করে। চীন দ্বীপটিকে নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রদেশ হিসেবে দেখে, যদিও কখনোই এটি শাসন করেনি। তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও চীন এখনো পরিত্যাগ করেনি।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি তাকে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করার আহ্বান জানান বলে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

পারডুর সাক্ষাৎকারের পর হোয়াইট হাউস নিউইয়র্ক টাইমসকে জানায়, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। আর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘মার্কিন আইন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করে এবং চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই।’

চীন নিজেই অস্ত্রের নিট রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি যেসব অস্ত্র আমদানি করে, তার বেশিরভাগই আসে রাশিয়া থেকে। তবে চীনের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় আমদানির পরিমাণ দ্রুত কমছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় চীনের অস্ত্র আমদানি ৭২ শতাংশ কমেছে।

সাক্ষাৎকারের আগে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি চীনের সামরিক হুমকির ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেন।

তাইপেতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালিতে তাইওয়ান একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। চীনের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়লেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশটি আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।’

সূত্র: দ্য গারডিয়ান

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন