© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তরুণীর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন প্রেমিক, ‘চোর’ বলে দেওয়া হলো পিটুনি

শেয়ার করুন:
তরুণীর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন প্রেমিক, ‘চোর’ বলে দেওয়া হলো পিটুনি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৩৩ এএম | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রেমিকার ডাকে গভীর রাতে তার ঘরে দেখা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ফয়সাল নামে এক যুবক। ধরা পড়ে যাওয়ার পর ঘরের খাটের নিচে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি; সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল্লাহ সমাজ এলাকায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের বাবা গোলাম মাওলা বাদী হয়ে ওয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রামগতি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুরুল্লাহ সমাজ এলাকার গোলাম মাওলার ছেলে ফয়সালের সঙ্গে প্রতিবেশি এক তরুণীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে যান ফয়সাল। টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে তাকে ধরে ফেলেন। পরিবারের দাবি, এরপর ফয়সালকে বেঁধে রেখে নির্মমভাবে পেটানো হয়, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখম হয়।

ছেলের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ফয়সালের বাবা গোলাম মাওলা অভিযোগ করেন, আটকের পর ফয়সালকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছিল হামলাকারীরা। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও স্থানীয়দের চাপে অভিযুক্তরা ফয়সালকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ মেম্বারের জিম্মায় তুলে দেয়।

ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য ফরিদ মেম্বার জানান, ফয়সালকে আটকের পর তার কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যুবকটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিকভাবে বসে মীমাংসা করার উদ্যোগ নেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ওয়াহেদ জানান, গভীর রাতে ফয়সাল তার বোনের ঘরের খাটের নিচে আত্মগোপন করেছিলেন এবং সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। তার দাবি, উত্তেজিত স্থানীয় যুবকরা ফয়সালকে মারধরের চেষ্টা করলে তিনি নিজেই অন্যদের সহায়তায় যুবকটিকে রক্ষা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় তুলে দেন।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন