© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৭ শতাধিক

শেয়ার করুন:
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৭ শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৪ পিএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যও রয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। বিক্ষোভস্থল এবং আশপাশের এলাকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। 

এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এই ধারার আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্লোগান দেওয়া ও জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়ম এবং অনেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। বিক্ষোভে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সদস্যরাও রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করে পুলিশ।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও আতিশিও রয়েছেন। এ ছাড়া আইসা, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে সেখানে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফিরোজ শাহ রোডে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয়।

পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে বারবার মানুষকে যন্তর মন্তরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সেখানে কোনো ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানায়, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতেই বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় দিল্লি মেট্রো মধ্য দিল্লির কয়েকটি স্টেশনে সাময়িকভাবে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন