প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোটে অংশ নেওয়া অর্থহীন: অভিজিৎ দীপকে
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৮ পিএম | ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
মহারাষ্ট্রের পুণেতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন দীপকে। মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে।
দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এমন নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল নিয়ে আগেই একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায় এবং কে বিজয়ী হবেন, সেটিও আগে থেকে নির্ধারিত থাকতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের এমন কয়েকটি রাজ্যে বিজেপি জয় পাচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সময়ও দলটি জয় পায়নি। এসব ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পুণেতে চলমান মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দীপকে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা এ বিষয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের নেতা রোহিত পাওয়ারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের সব পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের পাশে রয়েছেন তিনি। তার দাবি, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান দীপকে।
জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিয়ে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের একাংশ আগে থেকেই প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যে দীপকের সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
তবে দীপকের এসব অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরআই/টিএ