বাংলাদেশি সন্দেহে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর বিএসএফের গুলি, আহত ২
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৩ এএম | ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ভারতীয় নাগরিকের শরীরে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে পেটে গুলিবিদ্ধ একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।
আহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ শালমারা মানকাচর জেলার বড় বালু এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি ইসমাইল হোসেন এবং একই এলাকার আব্দুল আলীম।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্ররা জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানের সময় ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে তাদের আটক করে বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় বিএসএফ তাদের ‘বাংলাদেশি চোরাকারবারি’ সন্দেহ করে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। পরে নৌকায় করে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে এনে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাংলাদেশি জনগণ ও মাঝিদের সহায়তায় প্রথমে তাদের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
আহত ভারতীয় নাগরিক ইসমাইল হোসেন হাসপাতালের বিছানায় সাংবাদিকদের জানান, আমার বাড়ি আসামের দক্ষিণ শালমারা মানকাচর এলাকায়। আমি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বাড়ির মহিষ বাঁধতে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ সদস্যরা এসে আমাকে বলে তুই বাংলাদেশ থেকে আসছিস? তুই বাংলাদেশি।
আমি তাদের অনুরোধ করে বলেছি যে আমি ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে আমাকে লাঠি দিয়ে পেটায় এবং নৌকায় তুলে সীমান্তের ফাঁকে নিয়ে বন্দুক দিয়ে সরাসরি গুলি করে। পরে আমাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেলে গেলে ওখানকার মাঝিরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাদি জানান, রোববার গভীর রাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সার্জারি ইউনিট-২ এ দুই গুলিবিদ্ধ রোগীকে ভর্তি করা হয়। তোদের মধ্যে একজনের পেটের লাম্বার রিজনে মাল্টিপল প্যালেট ও লেসারেটেড ইনজুরি রয়েছে এবং পাঁজরের হাড় (রিব ফ্র্যাকচার) ভেঙে গেছে। তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও ফোলাভাব (অ্যাবডোমিনাল ডিস্টেনশন) রয়েছে, যার কারণে র অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতর বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে এই দুই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশের সহায়তায় তাদের আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা তাদের শরীর থেকে গুলির স্প্লিন্টার অপসারণসহ প্রয়োজনীয় সব ডায়াগনোসিস করেছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ ও সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে তাদের সর্বোত্তম সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এফআর/এসএন