রাজনীতির মাঠে 'খটরবটর': দৃশ্যমান নাটক নাকি নেপথ্যের কোনো খেলা?
১০:০৮ এএম | ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
কোথায় যেন একটু খটরবটর লাগতেছে?খটকা লাগার মাত্রার গভীরতা বুঝাতে খটরবটর শব্দটি ব্যবহার করলাম। ইদানিং দেশীয় রাজনীতিতে অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে ঘটছে। যেগুলোর কোনো সহজ উত্তর মাথায় আসছে না।
প্রথমত- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। যদি তিনি ফিরে আসতে চান তাহলে অক্টোবর বা নভেম্বরে কেন আসছেন না? ডিসেম্বরেই কেন আসবেন!
আর যদি ডিসেম্বরে না আসেন তাহলে নেতা-কর্মীদের কী ব্যাখ্যা দিবেন? পাসপোর্ট, ট্রেভেল পাস বা বিমানে উঠতে না দেয়ার অজুহাত তো দিতে পারবেন না। কারণ সরকার এসব আটকালেও চার হাজারের মতো সীমান্ত রয়েছে- এর যেকোনো এক প্রান্ত দিয়েই চাইলে আসতে পারেন। তাই সত্যি সত্যি যদি তিনি ডিসেম্বরে না আসেন তাহলে তিনি কী ব্যাখ্যা দেন আর উনার নেতা-কর্মীরা সেই ব্যাখ্যা শুনে কী প্রতিক্রিয়া দেখান তার প্রতিক্ষায় আছি।
দ্বিতীয়ত- মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এই ভদ্রলোক স্বাভাবিক অবস্থায় টকশো’তে যখন কথা বলেন তখন তাঁর কথার সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও শুনতে খারাপ লাগেনা। কিন্তু যখন তিনি মাথা গরম করে কথা বলেন তখন অবাক লাগে! এই ভদ্রলোক সেনাবিহিনির মেজর ছিলেন। দুই বারের সাবেক এমপি। আরও অবাক করার বিষয় তিনি বিএনপি থেকে ৫ বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এর অর্থ বিএনপি ৪ বার তাঁকে বহিষ্কারের পর ফিরিয়ে নিয়েছিল। আবার সারাজীবন যিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বললেন সেই তিনিই এখন জামায়াত নেতা। এমনকি দু’একবার সম্ভবত জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি’র জোট নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণেও বহিষ্কার হয়েছিলেন। এই তথ্যগুলোই মাথা আউলাইয়া যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সর্বশেষ তিনি বিমানবন্দরে একজন কর্মকর্তাকে যেভাবে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার কথা বলছিলেন তা এত বেশি অশোভন দেখাচ্ছিল যে, যেই দেখেছে সেই উনার সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও দীর্ঘ দিনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উপরও মানুষ বিক্ষোব্ধ।
গালাগালি চিৎকার চেঁচামেচির মতো আমল অযোগ্য একটি অপরাধে মামলা হতেই পারতো। মামলা না হলেও জনগন এটাকে নিন্দনীয় হিসেবে সমালোচনার মাধ্যমে বিচার করতো। কিন্তু এই ঘটনায় মামলা হলো। মামলার পর আমলযোগ্য মামলার মতো আসামী গ্রেফতার করা হলো। আরও অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে সেই মামলায় জামিন না দিয়ে একদিনের রিমান্ড দেয়া হলো। তারপর রিমান্ডের পর আদালতে শুনানির পর বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীিদের মধ্যে হাতাহাতি হলো।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর উপর আবারও হামলা হলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার ও সরকারী দল এত অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়াচ্ছে কেন? নাকি আমরা খালি চোখে যেটাকে অপ্রয়োজনীয় ভাবছি সেটা অপ্রয়োজনীয় নয়। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে?
এসব প্রশ্ন মাথায় মাঝে মাঝে কিলবিল করে। তারপর উত্তর না পেয়ে খটরবটর লেগে যায়।
সরকারের প্রতি একটি পরামর্শ। সরকারের হাতে অনেক ক্ষমতা । চাইলেই যেকোনো ব্যক্তিকে সরকার তছনছ করে দিতে পারে। এই অসীম ক্ষমতা পেয়ে বাংলাদেশের সরকারগুলো কোথায় কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয় সেই মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অবশেষে বিপদে পড়ে। বর্তমান সরকার এরকম কোনো কাজ করছে কি-না তা তাদের যাচাই করা উচিত। এই যাচাই দলীয় কর্মীদের ফেইসবুকের বয়ান কিংবা বিরোধীদলের ঘৃণা দেখে সঠিকভাবে আন্দাজ করা কঠিন। এসব কাজের জন্য বিদেশী বিভিন্ন ফার্ম রয়েছে যারা খুবই দক্ষতার সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কাজের ভবিষ্যত ফলাফল বিষয়ে জনমত জরিপ করে দেয়। এরকম দক্ষ ও প্রফেশনাল কোনো ফার্ম নিয়োগ দেয়া উচিত।
আখতারুজ্জামান ও সালমান মুক্তাদির ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ জনগন কীভাবে নিচ্ছে তা সরকার এসব জরিপের মাধ্যমে জানতে পারবে ভালোভাবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির অনেক সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছি তারা এগুলো কীভাবে নিচ্ছে। অনেকেরই মতামত হচ্ছে সরকার একটু বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছে। এখন থামলে ভালো হয়।
যাইহোক, কে কোথায় কখন থামবে সেটা একান্তই তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের প্রত্যাশা সহনশীল গনতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের বাংলাদেশ। একদিন নিশ্চয়ই আজকের হতাশাকে দূরে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণ হবে।
লেখক: মাহমুদুর রহমান , প্রবাসী কলামিস্ট ও রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র
এমআই/এসএন