© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ২ জনের ছাত্রত্ব নেই তবুও ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

শেয়ার করুন:
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ২ জনের ছাত্রত্ব নেই তবুও ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৩৪ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন, অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) আহসান হাবিব, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিশাল চক্রবর্তী, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম।

আহসান হাবিব কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার সংগঠন থেকে বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাকে সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সর্বশেষ তাকে আবারও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে বিশাল চক্রবর্তীকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশপ্রাপ্ত আরেকজন হাসিবুল ইসলাম। তিনি ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

হাসিবুল ইসলামের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও বর্তমানে তিনি ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এতে তার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পরে তাকে আবারও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটি আহসান হাবিব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল ইসলাম ও রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন