© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আটলান্টিক থেকে প্যাসিফিক- কুড়ি দিনের রোমাঞ্চ

শেয়ার করুন:
আটলান্টিক থেকে প্যাসিফিক- কুড়ি দিনের রোমাঞ্চ
সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ
০৯:৩৩ পিএম | ১১ অক্টোবর, ২০২৬
অ্যাসাইনমেন্ট ছিল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। কিন্তু রিপোর্টার্স নোটবুক বন্ধ হতেই শুরু হলো আসল আমেরিকা দেখার পর্ব—হাতে পাওয়া বাড়তি দশ দিনেই চষে ফেললাম এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। সাংবাদিকতার পেশাগত ব্যস্ততা শেষে হাতে জমে রইল বাড়তি দশটি দিন। পুরো সফর মিলিয়ে প্রায় ২০ দিন—আর সেই দিনগুলোতেই উন্মোচিত হলো এক ভিন্ন আমেরিকা; মানচিত্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এক রোমাঞ্চকর পরিভ্রমণ।

আমেরিকা আসলে একটি একক দেশ নয়, যেন পঞ্চাশটি সার্বভৌম ভূখণ্ডের এক বিশাল মেলবন্ধন। আয়তনের তুলনা টানলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়—কেবল ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যটিই আমাদের বাংলাদেশের প্রায় তিন গুণেরও বেশি বড়। টেক্সাস বা আলাস্কার মতো স্টেটগুলো পাঁচ-ছয়টি বাংলাদেশকে অনায়াসে নিজের বুকে এঁটে নিতে পারে। গোটা ইউরোপ মহাদেশের চেয়েও সুবিশাল এই ভূখণ্ডের বৈচিত্র্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে চমকে দিতে বাধ্য।



এই যাত্রায় চষে বেড়িয়েছি পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ—কমপক্ষে আট-নয়টি রাজ্য। কখনও আটলান্টিকের তীরে নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী কনক্রিট অরণ্য, তো কখনও প্যাসিফিকের মায়াবী জলরাশি ছুঁয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়া। কখনও পেন্সিলভেনিয়া, নিউজার্সি বা ওহাইওর পথঘাট, আবার কখনও নেভাদার বুক চিরে গড়ে ওঠা মরু-মরূদ্যান লাস ভেগাস কিংবা অ্যারিজোনার রুক্ষ ক্যানিয়ন। প্লেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেছি প্রকৃতির রূপবদল—সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে হঠাৎ মালভূমি, রুক্ষ পর্বতমালা, আর সেখান থেকে অতল সাগর।



সবচেয়ে অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েটে দাঁড়িয়ে। নদীর ওপারে চোখ মেললেই স্পষ্ট দেখা যায় কানাডার উইন্ডসর শহরের সুউচ্চ ভবনগুলো। আবার ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো সান দিয়েগোতে দাঁড়িয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানা সীমান্ত এতটাই কাছে, মনে হয় এ-বাড়ি আর ও-বাড়ির ব্যবধান! এক পলকেই যেন দুই ভিন্ন দেশের সীমানা ছুঁয়ে দেখার এই বিস্ময় ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

আমেরিকার জীবনধারার বৈপরীত্যটাও দারুণ। একদিকে নিউইয়র্কের নির্ঘুম, ক্ষিপ্র আর তীব্র যান্ত্রিক জীবন—যেখানে শহরের শিরা-উপশিরা হয়ে মাটির প্রায় ৬-৭ তলা গভীরে ছুটে চলছে ঐতিহাসিক সাবওয়ে নেটওয়ার্ক। আবার অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার শান্ত, রোদমাখা 'লেট-ব্যাক' কোস্টাল লাইফস্টাইল! প্যাসিফিকের হাওয়ায় যেমন রয়েছে প্রশান্তি, তেমনি সান দিয়েগোর মতো ব্যয়বহুল উপকূলীয় শহরের আভিজাত্য মনে করিয়ে দেয় পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির শক্তিমত্তা।



হার্ডসন নদীর স্নিগ্ধ বাতাস থেকে শুরু করে মিসিসিপির স্মৃতি, আর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জন—এই সফরে দেখেছি প্রযুক্তি, আধুনিকতা আর সভ্যতার নিখুঁত সমন্বয়। তবে সব ছাপিয়ে যা চোখে পড়েছে, তা হলো অভিবাসীদের এই প্রিয় গন্তব্যে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের স্বপ্নের মেলবন্ধন। কুড়ি দিনের এই যাত্রা কেবল কয়েকটি রাজ্যে ঘোরাঘুরি ছিল না; ছিল একটি মহাদেশসম রাষ্ট্রের রূপ, রূপান্তর আর বৈচিত্র্যকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করার এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

লেখক: সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ, বাংলাদেশ টাইমস 


"কুড়ি দিনের এই সফর কেবল কয়েকটি রাজ্যে ঘুরে বেড়ানো ছিল না; ছিল একটি মহাদেশসম রাষ্ট্রের রূপ, বৈচিত্র্য আর অদেখা বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে পাঠ করা। কানাডা আর মেক্সিকো সীমান্তের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে মরুভূমির মাঝে লাস ভেগাস, পাতাল রেলের জীবন আর ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো সান দিয়েগো—প্রতিটি প্রান্তের পেছনে লুকিয়ে আছে একেকটি স্বতন্ত্র গল্প।

ধারাবাহিক এই ভ্রমণ-আলেখ্যে ধাপে ধাপে উঠে আসবে সেসব গল্প, অভিজ্ঞতা আর অন-গ্রাউন্ড নানা অনুষঙ্গ। চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে..."

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন