© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাতকানিয়ায় দুই মাদ্রাসায় চাকরি, একই সঙ্গে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

শেয়ার করুন:
সাতকানিয়ায় দুই মাদ্রাসায় চাকরি, একই সঙ্গে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৭ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একই সময়ে দুটি মাদ্রাসায় চাকরি ও বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুল্লাহ আমিন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২১ সালে ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসায় সুপার পদে নিয়োগ নেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি ও এমপিও নীতিমালার পরিপন্থি। এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পৃথক আবেদন জমা পড়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এন-২০৯৭৫২০।

অনুসন্ধানে পাওয়া নিয়োগপত্র, যোগদানের তারিখ, চাকরির রেকর্ড, হাজিরা খাতা এবং বেতন-ভাতা উত্তোলন-সংক্রান্ত নথিপত্রে আবদুল্লাহ আমিনের দুই মাদ্রাসায় চাকরির বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব নথি অনুযায়ী, গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসায় সুপার পদে নিয়োগ নেন ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণায় নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ‘সুপার’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মো. আবদুল্লাহ আল আমিন। অথচ একই সময়ে তিনি গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। 

ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসা থেকেও বেতন গ্রহণ করেছেন মো. আবদুল্লাহ আল আমিন বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসার বেতন-সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি তাঁর ক্লাস রুটিনও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ আমিন ঠাকুরদিঘী নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসা থেকে বেতন গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি নিজেকে মাদরাসাটির ‘সংগঠক, কখনো ‘পরামর্শদাতা’, আবার কখনো ‘পরিচালক’ হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করেন।

বেতনগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরদিঘী নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসায় তিনি অনুদান দেন। তাই ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেয়া ‘অবৈধ’ নয়।

এ নিয়ে গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুল আজিম বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন থেকে তলব করার পর, অভিযুক্ত শিক্ষককে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ক অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছি’।

তবে এতোদিন কীভাবে বছরের পর বছর আবদুল্লাহ আমিন একইসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন, প্রকাশ্যে কীভাবে তিনি নিজেকে ‘সুপার’ পরিচয় দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ভাতা নিচ্ছেন, এতে প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে তার দায়িত্ব অবহেলার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। খুব দ্রুত পূর্ণাজ্ঞ প্রতিবেদন সামনে আসবে।

তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আনওয়ার হোসেন পলাশ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর প্রচলন নেই বলে অভিযোগ অভিভাবক মহলের। তাদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষক নিজেদের ইচ্ছামতো মাদ্রাসায় আসেন। 

শিক্ষকদের উপস্থিতি তদারকিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিয়মিত জবাবদিহি নিশ্চিত না করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও। অভিভাবকদের অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়মতো পাঠদান নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন