তাজমিন হত্যার ঘটনায় রাজুকে নিতে গিয়েও কক্সবাজারে রেখে ফিরল কুমিল্লা ডিবি
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৭ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে কক্সবাজার থেকে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে (২০) নিজেদের হেফাজতে নেয়নি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকালে রাজুকে নিতে কক্সবাজার গেলেও তাকে সেখানকার থানায় রেখেই ফিরে আসে পুলিশের দল। কুমিল্লা পুলিশের দাবি, তাজমিন হত্যা মামলায় রাজুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান।
এর আগে, রোববার রাতে তাজমিন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে রাজুকে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ এলাকা থেকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। পরে সোমবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তাকে নিতে কক্সবাজার যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজুকে কক্সবাজার সদর থানা থেকে বের করে ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় তাকে গ্রহণের পর পুলিশ সদস্যদের ছবি তুলতেও দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে সঙ্গে না নিয়েই কক্সবাজার সদর থানায় রেখে ফিরে যায় ডিবি পুলিশের দল।
রাজুকে হস্তান্তরের জন্য কুমিল্লা ডিবির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়, তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রায় দুই দিন আগে তার কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, ঘটনার আগে তাদের যোগাযোগের কারণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, তাজমিন হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় রাজুকে গ্রহণ করেনি জেলা পুলিশ। তাকে গ্রহণ করা হয়েছে, এমন মর্মে একটি চিঠি প্রতিবেদকের হাতে থাকার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রহণ করিনি। আপনারা রিপোর্ট করুন।’
অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ওসি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, তারা আসামিকে নিয়ে গেছেন। পরে শুনলাম, তারা নেননি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কী করা যায়, দেখছি।’
রাজুকে কেন কুমিল্লা ডিবির হেফাজতে নেয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে দুই জেলার পুলিশের মধ্যে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
কেএন/টিএ