প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করছে সরকার : আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১২:২০ পিএম | ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালত গঠন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের শ্রম আদালত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ শ্রম আদালত গঠন করা হয়েছে, শ্রমিক আইন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পর যখন পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে যান, কিংবা তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, তখন বছরের পর বছর তারা (প্রবাসীরা) আমাদের আইনজীবীদের পকেটে টাকা দেন, মামলা করতে থাকেন, তাদের জীবন শেষ হয়ে যায় মামলা টেকঅ্যাপ (বিচারক কর্তৃক শুনানির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলার কার্যক্রম) করতে গিয়ে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য আমরা বিশেষ আদালত গঠন করব বিশেষ করে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে। যে আদালত শুধুমাত্র প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সম্পদ সহায়তা দিতে পারবে, যেকোনো ধরনের প্রবাসী মামলা এই আদালত দেখতে পারবে, বিশেষায়িত আদালত। এই পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি এবং আশা করি এটা আমরা অচিরেই শুরু করতে পারব।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড শ্রম রপ্তানি, তবে বিদেশে বাংলাদেশিদের অনেক ক্ষেত্রে শ্রমের মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এটা অ্যাড্রেস করবেন বলে আশা করছি বিশেষ করে শ্রমের মূল্যের যে পার্থক্যটা, যে বৈষম্যের শিকার বিভিন্ন দেশে দেশে আমাদের বাংলাদেশি শ্রমিকরা হচ্ছেন সেই বিষয়টা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, আরব আমিরাতে ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা ক্যান্সেল করা হয়েছে। অনেকের ভিসা পেন্ডিং রয়ে গেছে। এটার কারণ হলো, তারা যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, সেগুলো এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ডকুমেন্টস এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট জমা দিচ্ছে।
অসাধু রিক্রটিং এজেন্সির মালিকের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, যারা ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। আমরা ইতমধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রবাসী শ্রমিকরা বা তাদের সন্তানদের যদি বাংলাদেশে লিগ্যাল সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা লিগ্যাল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা তাদের লিগ্যাল এইড দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছি। আমাদের একটা হটলাইন রয়েছে।
এমআর/টিএ