© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

উড়ন্ত ‘রকেট কার’ আনল টেসলা

শেয়ার করুন:
উড়ন্ত ‘রকেট কার’ আনল টেসলা
সাব্বির আহমেদ, মোবাইল জার্নালিজম এডিটর-ইন-চিফ
০১:৩০ পিএম | ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
চোখের পলক ফেলার আগেই—সেকেন্ডেরও কম সময়ে গাড়িটির গতি ১০০ কিলোমিটারে উঠে যায়। আবার চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই গাড়িটি শুধু ছুটছেই না, রীতিমতো উড়ছে আর বাতাসে খাচ্ছে চক্কর!

হলিউডের জেমস বন্ড কিংবা কোনো কল্পবিজ্ঞান সিনেমার কাল্পনিক দৃশ্য নয়, এমনই এক ‘উড়ন্ত গাড়ি’ সামনে এনে গাড়িপ্রেমীদের তাক লাগিয়ে দিলেন ইলন মাস্ক। টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের সুবিশাল রকেট ঘাঁটিতে এক রুদ্ধশ্বাস আয়োজনে টেসলা উন্মোচন করল তাদের নতুন রোডস্টার।

উন্মোচনের মঞ্চে খোদ ইলন মাস্কের মুখেও ছিল সতর্কতার সুর—“সাফল্যের শতভাগ নিশ্চয়তা নেই, তবে রোমাঞ্চ নিশ্চিত।” কিন্তু রকেট ইঞ্জিনের গর্জন ছাপিয়ে গাড়িটি যখন প্রদর্শনী শেষ করল, টেসলার প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি মুগ্ধ হয়ে শুধু বললেন, “উড়ন্ত গাড়ি আর কল্পনা নয়, এটি এখন নির্ভেজাল বাস্তব।”



কেন অবিশ্বাস্য এই গাড়ি? এক নজরে চমকগুলো:

* পলক ফেলার আগেই গতি: ০ থেকে ৬০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে এর সময় লাগে মাত্র ০.৮১ সেকেন্ড। মাস্কের দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়েও এটি দ্রুততর প্রমাণিত হয়েছে।
* রকেট বুস্টারের ধাক্কায় ওড়া: গাড়ির পেছনে সাধারণ কোনো একজস্ট পাইপ নেই; স্পেসএক্সের সহায়তায় যুক্ত করা হয়েছে ১০টি বিশেষ থ্রাস্টার নজল। রকেটের মতো দাহ্য জ্বালানি নয়, বরং উচ্চচাপযুক্ত বাতাস (কমপ্রেসড এয়ার) ছুড়ে এটি বাতাসে ডিগবাজি খেতে পারে।
* পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকে বুড়ো আঙুল: গাড়িটি যেন তীব্র গতিতেও উল্টে না যায়, সেজন্য নিচের অংশে রয়েছে দানবীয় সাকশন ফ্যান প্রযুক্তি। এই ফ্যান গাড়িটিকে রাজপথের সঙ্গে আঠার মতো চেপে ধরে রাখে, যা তীব্র বাঁকেও দেয় ২-জি (2g) ফোর্সের অবিশ্বাস্য গ্রিপ।
* রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা: ইলন মাস্কের ভাষায়—“বাঁক নেওয়ার সময় মনে হবে এটি পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম ভেঙেই চলছে। ট্র্যাকের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত যত গতির রেকর্ড তৈরি হয়েছে, তার সবকটিকে গুঁড়িয়ে দেবে এই গাড়ি।”


তবে এমন এক ‘বুনো’ গাড়ি কি সাধারণ সড়কে চলার অনুমতি পাবে?

ইলন মাস্ক নিজেই সেই সংশয় আড়াল করেননি। অকপটেই স্বীকার করেছেন, গাড়িটি তৈরি হয়ে মানুষের হাতে পৌঁছালেও সব দেশের প্রচলিত ট্রাফিক আইন এটিকে সড়কে নামার ছাড়পত্র নাও দিতে পারে। তবুও এক অদ্ভুত উন্মাদনা যোগ করে তিনি বলেন, “বিশ্বের সব আইনি কাঠামোর মধ্যে হয়তো এটি পড়ার কথা নয়, কিন্তু রাস্তায় চালানোর মতো এমন একটি রকেট কার আপনার নিজের থাকবে—ভাবতেই রোমাঞ্চ লাগে!”



টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটিতে রকেট থ্রাস্টারের এই অদ্ভুত ক্ষমতাটি থাকবে অতিরিক্ত (অপশনাল) ফিচার হিসেবে। আর ব্রিটিশ বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি শুধু বাঁ-হাতি স্টিয়ারিংয়েই (লেফট-হ্যান্ড ড্রাইভ) তৈরি হচ্ছে।

সায়েন্স ফিকশন আর মহাকাশ প্রযুক্তির এই যুগলবন্দি বাণিজ্যিকভাবে সড়কে নামতে আরও কিছুটা সময় নেবে। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে এর আনুষ্ঠানিক উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে—যার গতি নাকি টেস্ট ট্র্যাকের চেয়েও আরও বিধ্বংসী হবে!

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন