© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল রূপান্তরে এলো হ্যাকাথনের ডাক

শেয়ার করুন:
স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল রূপান্তরে এলো হ্যাকাথনের ডাক

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোবাইল জার্নালিজম এডিটর-ইন-চিফ
০৯:৪৪ পিএম | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
হাসপাতালের সামনে প্রচুর ভিড়। কোন অটোমেশন সুবিধা দিয়ে যদি এই ভিড় কমানো যায়! অথবা রোগীর সিরিয়াল পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে সহজ সমাধান দেয়া যায়- এমনটা খুঁজে বের করতে ডাক দেয়া হয়েছে ই-হেলথ হ্যাকাথন। এর মূল লক্ষ্য—তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তাবিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর রূপরেখা প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল আধুনিকায়ন।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কৌশলগত অংশীদারত্বে আয়োজিত এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মের চূড়ান্ত পর্ব ও সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৬। এডিএন টেলিকম এর ডিজিটাল রূপান্তর অংশীদার।

চূড়ান্ত পর্বের সময়সূচি চলতি বছরের ৩–৫ ডিসেম্বর 

নিবন্ধনের সুযোগ: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (ehealthhackathonbd.org) পুরো এক মাসব্যাপী দেশ ও বিদেশ থেকে যেকোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এতে নিবন্ধন করতে পারবেন।

অংশগ্রহণের ক্ষেত্র: প্রতিযোগী (Participant), প্রদর্শক (Exhibitor) ও দর্শনার্থী (Visitor)—এই তিন বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

আয়োজনের মূল ধাপ: প্রাথমিক আইডিয়া যাচাইয়ের পর নির্বাচিত উদ্ভাবকদের নিয়ে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে ৩ দিনের নিবিড় বুট ক্যাম্প। সেখান থেকেই বাছাই করা সেরা উদ্ভাবনগুলো বাস্তবায়নের পথে যাবে।

কী ভাবছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়?

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান দায়িত্বের আট মাসের মাথায় নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য বাস্তুতন্ত্র (Digital Health Ecosystem) তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বর্তমানে যে বিচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংরক্ষণ করছে (Siloed systems), তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি কেন্দ্রীয় ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল আর্কিটেকচার গড়ে তোলা জরুরি। ২০ কোটি মানুষের এই সুবিশাল স্বাস্থ্য ডেটাবেস ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণার অন্যতম বড় সম্পদে পরিণত হবে। তবে তথ্যের সুরক্ষায় ডেটা সার্বভৌমত্ব ও সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগোতে হবে।

এর সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন-

১. ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (EMR) ও সেন্ট্রাল ডিসপেনসারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারি ওষুধের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা।
২. ওষুধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করে প্রাণঘাতী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) প্রতিরোধ করা।
৩. দেশব্যাপী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে একটি একক পুলে এনে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া।
৪. হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইন কমাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঘণ্টার স্লট (Hourly slot) অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও টিকিট নেওয়ার সুবিধা চালু করা।

ঢাকার বাইরের মেধার খোঁজে জাতীয় ডাক
এই হ্যাকাথনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার। নীতিনির্ধারণের জন্য কেবল ঢাকার বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে পঞ্চগড়, জকিগঞ্জ, রাজশাহী কিংবা রংপুরের মতো প্রান্তিক জনপদের প্রতিভাবান তরুণ শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও উদ্যোক্তাদের সরাসরি জাতীয় উদ্যোগে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে সেরা আইডিয়াগুলো জাতীয়ভাবে বাস্তবায়নের মেন্টরশিপ পাবে।

কীভাবে অংশ নেবেন: ধাপে ধাপে আবেদনের রূপরেখা
অফিসিয়াল পোর্টালে (ehealthhackathonbd.org) গিয়ে যে কেউ অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ ৭টি ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন:

১. রেজিস্ট্রেশন শুরু: ওয়েবসাইটের মূল ব্যানারে গিয়ে ‘REGISTER AS PARTICIPANT’ নির্বাচন করতে হবে।
২. অংশগ্রহণের ধরন: ব্যক্তি হিসেবে যোগ দিতে ‘Individual’ এবং দেশ হিসেবে ‘Bangladesh’ নির্বাচন করতে হবে (প্রতিষ্ঠান বা দল হিসেবেও নিবন্ধনের আলাদা অপশন রয়েছে)।
৩. ভূমিকা নির্ধারণ: আবেদনকারী নিজেকে Student, Doctor, Developer, Entrepreneur নাকি Other—কোন ভূমিকায় উপস্থাপন করতে চান তা নির্ধারণ করতে হবে।
৪. ব্যক্তিগত বিবরণ: নিজের একটি স্পষ্ট হেডশট ছবি (অনূর্ধ্ব ৫ মেগাবাইট), পূর্ণ নাম, এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর ও সচল ইমেইল ঠিকানা দিতে হবে।
৫. আইডিয়া প্রস্তাবনা জমা: প্রস্তাবিত আইডিয়ার জন্য উপযুক্ত Thematic Area নির্বাচন করে শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত সারাংশ লিখতে হবে। একই সঙ্গে আইডিয়ার বিস্তারিত রূপরেখাসংবলিত সর্বোচ্চ ২৫ মেগাবাইটের একটি সহায়ক নথি (PDF ফরম্যাটে) আপলোড করতে হবে (একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ ৩টি আইডিয়া দিতে পারবেন)।
৬. নম্বর যাচাইকরণ: প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে আসা ৬ অঙ্কের ওটিপি কোড দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নম্বর ভেরিফাই করতে হবে।
৭. ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড: সাবমিটের পর প্রাপ্ত আইডি নম্বর দিয়ে ‘Registration Tracker’ অপশনে গিয়ে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে। আইডিয়াটি শর্টলিস্টেড হলে সরাসরি ইভেন্টের প্রবেশপত্র বা কিউআর কোড ডাউনলোড করা যাবে।

(সহায়তার জন্য আয়োজকদের হটলাইন ০৯৬১১৬৭৮৭৩৯ এবং ইমেইল info@ehealthhackathonbd.org উন্মুক্ত রয়েছে)।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন