© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৯৫ বছর বয়সে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিলেন বারবারা ব্যারি

শেয়ার করুন:
৯৫ বছর বয়সে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিলেন বারবারা ব্যারি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২১ পিএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত মার্কিন অভিনেত্রী বারবারা ব্যারি ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল এইড ইন ডাইং আইনের আওতায় চিকিৎসা সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেন তিনি। গত ২৮ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। তার মেয়ে জেন হার্নিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

বারবারা ব্যারির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মেডিকেল এইড ইন ডাইং আইনের বিধান অনুসারেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেও এই আইনের একজন সমর্থক ও প্রবক্তা ছিলেন। তার প্রতিনিধি বলেন, হার্নিক পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করছি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল এইড ইন ডাইং আইনের আওতায় চিকিৎসা সহায়তায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই আইনের একজন সমর্থক ও প্রবক্তা ছিলেন।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল গত ৬ ফেব্রুয়ারি এ আইনে স্বাক্ষর করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে আইনটি কার্যকর হয়। এ আইনের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের আবেদন করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মূল্যায়নসহ বেশ কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে আইনের নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হয়।

নিজের স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিয়ে জীবনের বিভিন্ন সময়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বারবারা। তিনি ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস নামের দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাময়-অযোগ্য ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে ‘প্লেবিল’ সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপন নিয়ে কথা বলেন তিনি। সে সময় বারবারা বলেছিলেন, আমার জীবন খুব পরিপূর্ণ ও কর্মব্যস্ত। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা একই সঙ্গে অজানা এবং জানা। আমি পূর্ণ উদ্যমে জীবন যাপন করছি এবং অন্যদেরও একইভাবে জীবন যাপনে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহ ও দৃঢ়তা ছিল।

বারবারা ব্যারির জন্মনাম ছিল বারবারা অ্যান বারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম নেয়া এই অভিনেত্রী মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ কর্মজীবন গড়ে তোলেন। ১৯৬৪ সালে ‘ওয়ান পটেটো, টু পটেটো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালের ‘ব্রেকিং অ্যাওয়ে’ চলচ্চিত্রে এভলিন স্টোলার চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। সিনেমাটিতে তিনি ছিলেন প্রধান চরিত্রের মায়ের ভূমিকায়। এই অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন বারবারা।

ব্রডওয়েতেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। স্টিফেন সন্ডহেইমের সংগীতনাট্য ‘কোম্পানি’ তে প্রথম সারাহ চরিত্রে অভিনয় করেন বারবারা। এ কাজের জন্য টনি অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। টেলিভিশনে ‘বার্ণি মিলার’ ধারাবাহিকে এলিজাবেথ মিলার এবং ‘সানেলি সুসান’ অনুষ্ঠানে নানা কিনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেন। এ ছাড়া ‘রিয়েল ম্যান’ ও ‘চাইল্ড অব গ্লাস’ -এর মতো কাজেও দেখা গেছে তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের অসুস্থতা ও চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়েও সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন বারবারা। ১৯৯৪ সালে তার মলদ্বারে ক্যানসার শনাক্ত হয়। রোগটি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখেন দুটি বই। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘সেকন্ড অ্যাক্ট’ এবং ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘ডোন্ট ডাই অব এম্বেরেসম্যান্ট: লাইফ আফটার কলোসটমি অ্যান্ড আদার অ্যাডভ্যাঞ্চারর্স’।

১৯৯৭ সালে ‘সাউথ ফ্লোরিডা সান সেন্টিনেল’ -কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন তিনি। বারবারা বলেছিলেন, আমি যদি এই বিষয়টি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে সেটাই হবে আমার জীবনের উত্তরাধিকার। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অসুস্থতা নিয়ে সচেতনতা তৈরির এই প্রচেষ্টাও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন