‘দাবি’ পূরণ হওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
০২:১১ পিএম | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
‘দাবি’ পূরণ হওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার পর তিনি এই আহ্বান জানান।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ছাড়াও একজন নিরপেক্ষ সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য পৃথকভাবে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের দুজন প্রতিনিধিকে বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর (সংশোধিত ২০২৬) ১৩৮ ধারার ২ ও ৪ উপধারার বিধান অনুযায়ী সরকার এই মজুরি বোর্ডের স্থায়ী সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
গঠিত বোর্ডের বিষযে মন্ত্রী জানান, এই পাঁচজন সদস্যের পাশাপাশি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন বিচারপতি শেখ আশফাকুর রহমান। এই সদস্যদের নিয়ে গঠিত স্বাধীন মজুরি বোর্ড দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সন্তোষজনক মজুরি নির্ধারণে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা, যা আজ পূরণ হয়েছে। তাদের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এই বোর্ড ঘোষণার পর আশা করি শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে দিয়ে নিজ নিজ কলকারখানায় কাজে যোগ দেবেন। এ ছাড়া বোর্ডের সব সদস্যকে দ্রুততম সময়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
আন্দোলনের নেপথ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। গতকাল বিভিন্ন কারখানায় বহিরাগতরা ঢিল ছুড়েছে এবং আজকেও শ্রমিকদের পরিকল্পিতভাবে ছুটি দিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “ঘটনাটি স্পষ্ট। আন্দোলনের আড়ালে একটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে অংশ নিয়েছেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। আন্দোলনের পেছনে থেকে আরেকটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ ও গণমাধ্যম সজাগ থাকলে তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আজকের ঘটনা যদি পর্যালোচনা করেন, তাহলে আপনারাই ভালো বিশ্লেষণ করতে পারবেন। আমার মনে হয়, জনগণ এবং আপনারা সবাই সজাগ থাকলে তারা সেই উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না।
এমআর/