নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রথম সমকামী পুরুষ সিনেটর ক্রিস পাপাস
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৫ এএম | ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস। নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের, সিনেট নির্বাচনে, রিপাবলিকান দলের সাবেক সিনেটর জন ই. সানুনুকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর হতে যাচ্ছেন পাপাস।
সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে আসা প্রার্থীদের মতো পাপাসও নির্বাচনী প্রচারে নিজের এই পরিচয়কে বিশেষভাবে সামনে আনেননি। তবে তার জয়কে সিনেটে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে বিরোধিতা বাড়ছে। একইসঙ্গে, সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু অধিকারকর্মী জনসমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারের কয়েকটি অনুষ্ঠানে পাপাসের পার্টনার উপস্থিত থাকলেও তিনি মূলত ডেমোক্র্যাটদের প্রচারের সাধারণ বিষয়গুলোতেই গুরুত্ব দিয়েছেন। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের দুর্নীতির বিরোধিতা ছিল তার প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়।
অক্টোবরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপাস বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, মানুষ আসলে চায় তাদের প্রতিবেশীরা যেন নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রকাশ্যে সমকামী হিসেবে পরিচিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে পাপাসের আগে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক গড়েছেন আরও কয়েকজন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য বার্নি ফ্র্যাঙ্ক ১৯৮৭ সালে, প্রতিনিধি পরিষদে ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর নিজের সমকামী পরিচয়ের কথা প্রকাশ্যে জানান। এর কয়েক দশক পর, ২০১২ সালে, উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, ট্যামি বাল্ডউইন, প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন।
রাজনীতিতে পরিচিতি পাওয়ার আগে ৪৬ বছর বয়সী পাপাসকে সবচেয়ে বেশি চেনা হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে তার পরিবারের রেস্তোরাঁ ‘পুরিটান ব্যাকরুম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে। কথিত আছে, তার দাদা ওই রেস্তোরাঁতেই চিকেন টেন্ডার উদ্ভাবন করেছিলেন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে, নিউ হ্যাম্পশায়ারের অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন পাপাস। সেখান থেকেই শুরু হয় অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলা। পরে ২০১৮ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জয় পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের যে ঢেউ তৈরি হয়েছিল, পাপাসও তাতে যুক্ত হন।
এ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে চার মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের এলজিবিটিকিউ অধিকারবিষয়ক সংগঠন কংগ্রেশনাল ইকুয়ালিটি ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন পাপাস।
তার জয়ের ফলে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। উল্লেখ্য, শাহিন পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এসএ/