© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

লুট করা স্বর্ণের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধে মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যা

শেয়ার করুন:
লুট করা স্বর্ণের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধে মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪৮ পিএম | ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুট করা স্বর্ণের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পরিকল্পনাকারী মারুফ হোসেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এর আগে স্বর্ণের ভাগ নিয়ে বিরোধ মেটাতে শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তিনি তাতে সন্তুষ্ট হননি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন।

পুলিশ সুপার জানান, ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পর লুট করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন মারুফ। ভাগ না পেয়ে শাকের বারবার তার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গোলাম জাহিদ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সেখানে মারুফকে শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। মারুফ ওই টাকা দিলেও শাকের সন্তুষ্ট হননি, তিনি স্বর্ণের ভাগের দাবিতে অনড় থাকেন। শাকেরের অব্যাহত চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ একপর্যায়ে গোলাম জাহিদকে শাকেরকে হত্যার কথা বলেন। পরে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠান তিনি। এরপরই শাকেরকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, পৃথক দুটি মামলার তদন্তে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি ও শাকের হত্যার মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ডাকাতি ও হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির স্বর্ণের অংশবিশেষ, বুলেট, খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এরপর স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনিবাগানে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে তার কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। লুট হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল এবং রুপালি রঙের একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মোটরসাইকেলে এসে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে (৩৬) মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)। তাদের কাছ থেকে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুই মামলায় মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম। দুই মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এসপি মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমআই


মন্তব্য করুন