মাদক কারবারে জড়িত নেতাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই : ইশরাক হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৯ পিএম | ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
মাদক কারবারে জড়িত রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, মাদক একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মাদক কারবারের বিস্তার ও পৃষ্ঠপোষকতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক পরিবহন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পর তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িত হয়ে পড়েন। তবে, কোনো একটি সংস্থার সবাই জড়িত, এমনটা নয়।
তিনি বলেন, মাদক অন্য অপরাধের মতো নয়। এটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার ভূমিকা রাখে। রাজনীতিবিদেরা জনগণের বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। সেই রাজনীতিবিদদের কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আলোচনা ও সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য ইশরাক। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি জাতীয় গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধের পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যে আসক্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকেও সন্তানদের প্রতি নজরদারি ও সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজের নির্বাচনি এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। জুরাইন রেলগেট থেকে গেন্ডারিয়া ঘুণ্টিঘর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল টপকে অল্পবয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের সেখানে প্রবেশ করে মাদক সেবনের ফুটেজ দেখে আমি উদ্বিগ্ন। মাদক বিক্রেতারাও সেখানে প্রবেশ করে মাদক বিক্রি করছেন।
মাদক সরবরাহের উৎস ও পরিবহণব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইশরাক বলেন, মাদকের চাহিদা থাকলে সরবরাহও থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তবে, সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এনে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।
নিজের অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু নামকরা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন দেখা গিয়েছে।
ইশরাক জানান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সঙ্গে মিলে তারা একটি অলাভজনক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংগঠনটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এমআর/