পুলিশের টহল গাড়ির পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল, ৯ দিনে গ্রেপ্তার ১৭
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৫ পিএম | ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
সিরাজগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়ির পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল ও পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মিছিলের ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯ দিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ইউপি সদস্য, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শিয়ালকোল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৪৫) এবং সায়দাবাদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল রাব্বি (৪১)। তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম (৩৪), একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য শাহাদাত হোসেন (২২), সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাদিম সেখ (২৩), শিয়ালকোল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম (৪৭), সায়দাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (৪৮) এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন (৪১) রয়েছেন। এছাড়া কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল মুদিপাড়া গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল (১৭) এবং ভদ্রঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব কুমার দত্তকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ সদর থানার খোকসাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সিরাজুল ইসলামকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জের জানপুর, দত্তবাড়ি ও কামারখন্দ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি লিটন শেখ (৪৫), ছাত্রলীগ কর্মী ইউনুস আলী নিশাত ওরফে আগুন শেখ (৩৮), যুবলীগ কর্মী চান শেখ (৪৫) এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কোরবান আলী (৩৩)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়া একই ঘটনার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কোবদাসপাড়া ও একডালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- যুবলীগ কর্মী মো. রবিউল ইসলাম (৩১), ছাত্রলীগ কর্মী মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে সোহাগ (২৮) এবং ছাত্রলীগ কর্মী মো. সাজু (১৭)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু মিছিল কেন্দ্রিক ও মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
অন্যদিকে কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে জামতৈল ও ভদ্রঘাট বাজার এলাকা থেকে রাসেল ও বিপ্লব কুমার দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাসেলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিপ্লব কুমার দত্তকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের একটি এলাকায় পুলিশের টহল গাড়ির পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। ভিডিওতে একরামুল হককে মিছিলে সরাসরি উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মিছিলের সামনে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ছিল। গাড়িতে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। এ সময় মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ‘একবারে মাইরা ফালামু’ বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে গাড়ির দরজা খোলা হলেও পরে দরজা বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পুলিশের টহল গাড়িটি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুর রহমান, কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান, মোরশেদুল ইসলাম ও গাড়িচালক আব্দুল গফুরকে ক্লোজড করা হয়।
এমআর/