© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পদত্যাগের আগে নিষ্ক্রিয় ছিলেন সামান্তা, এনসিপি বেকায়দায় পড়বে না: সারোয়ার তুষার

শেয়ার করুন:
পদত্যাগের আগে নিষ্ক্রিয় ছিলেন সামান্তা, এনসিপি বেকায়দায় পড়বে না: সারোয়ার তুষার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২১ পিএম | ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
জামায়াতের সঙ্গে জোট, নারী অধিকার ও দলীয় গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগে দলটি খুব বেশি বেকায়দায় পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, পদত্যাগের আগে দীর্ঘ সময় ধরে সামান্তা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের পেছনে প্রধান চারটি কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

সামান্তা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শাসক পরিবর্তনের বদলে শাসনকাঠামোর পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক পক্ষগুলো এক হয়ে নির্বাচনকে আবারও ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। তার মতে, এনসিপি জোট গঠনের মধ্য দিয়ে সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়েছে।

পদত্যাগের বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের সময় জোট গঠনের সিদ্ধান্তে সামান্তার দ্বিমত ছিল। তবে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি দলে ছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তুষার আরও বলেন, সামান্তা ও রাজনৈতিক পরিষদের কয়েকজন সদস্য দল পুনর্গঠনের সময় পরিষদে থাকতে চাননি। পুনর্গঠনের পর তিনি দলীয় সভায় অংশ নেননি বা বক্তব্য দেননি বলেও দাবি করেন তুষার। তার অভিযোগ, সামান্তা ব্যক্তিগতভাবে দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে তাতে সমর্থন পাননি।

তুষার বলেন, নতুন পুনর্গঠন কমিটি গঠনের সময় সামান্তাকে আবারও দলে থাকতে চান কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আপত্তি জানাননি। এখন পদত্যাগ করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এ সিদ্ধান্ত ঠেকানোর কিছু নেই।

দলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তের চেয়ে সামান্তা নিজের অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।

উল্লেখ্য, এনসিপির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন সামান্তা শারমিন। গত ২৩ অক্টোবর কমিটি পুনর্গঠনের পর তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

এমআই/

মন্তব্য করুন