© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ‘মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ ঘোষণা করতে হবে’

শেয়ার করুন:
‘মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ ঘোষণা করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০১ পিএম | ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, মানবপাচারকারীরা জনগণ, সমাজ ও দেশের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ ঘোষণা’ করতে হবে, যাতে তিতাস শেখের মতো আর কাউকে প্রাণ দিতে না হয়। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) ফরিদপুরের নগরকান্দায় মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রায় আধা ঘণ্টা সময় তিনি এই বাড়িতে অবস্থান করেন। প্রথমে বাড়ির আঙিনায় তিনি পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। পরে বাড়ির ভিতরে গিয়ে তিতাসের পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে তিনি তিতাসের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং কবর জিয়ারত করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সারা বাংলাদেশে আমাদেরকে জিহাদ ঘোষণা করতে হবে, যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কারণ এরা জনগণের শত্রু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তিতাস। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন সেই দোয়া করছি। পরিবারের সকলকে যেন আল্লাহ এই শোক সইবার শক্তি দেন আমি সেই দোয়া করছি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ সেই যুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে তিতাস শেখকে জীবন দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে তিতাস শেখের মতো অনেককে জীবন দিতে হয়েছে আমরা যেন তাদেরকে ভুলে না যাই।

শামা ওবায়েদ বলেন, তিতাস আমার গ্রামের সন্তান। আমি এই পরিবারের সাথে আছি। সবসময় থাকব। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমান তিতাসের পরিবারের পাশে আছেন।

তিনি বলেন, আমি একটি কথা বলতে চাই যে, এই মানবপাচারকারীরা শুধু টেকনাফে কিন্তু না, সব জায়গাতেই আছে। আমাদের এই ফরিদপুর এলাকাতেও মানবপাচারকারীরা আছেন। যারা দালালি করে ভুল বুঝিয়ে, গ্রামের সহজ-সরল মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেই দায়িত্বে আছি সেই দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি বলতে পারি, এই যুদ্ধ আমাদেরকে চালিয়ে যেতে হবে, দালালি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এই মানবপাচারকারীদের জন্য আমাদের হাজার হাজার, লাখ লাখ প্রবাসী ভাই-বোনরা যারা বিদেশে চাকরি করছেন, তাদের জীবন এবং কর্মসংস্থান বিপদের মুখে পড়ছে। আমাদের মেধাবী দক্ষ যারা বিদেশ যেতে চাচ্ছে তাদের বিদেশ যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এই দালাল চক্রের কারণে।

শামা ওবায়েদ বলেন, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সারা বাংলাদেশে আমাদেরকে একটি জিহাদ ঘোষণা করতে হবে, যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কারণ এরা জনগণের শত্রু, সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু। আমরা সকলেই চাই আমাদের দেশের জনগণ ভালো থাকুক সুস্থ থাকুক। তিতাসের মতো আর কাউকে যেন জান দিতে না হয়, প্রাণ দিতে না হয়।

তিতাসের মতো এমন একজন মেধাবী সৈনিককে হারানোর কারণে আমাদের দেশের ক্ষতি হয়েছে- মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, ভবিষ্যতে যেন আমাদের কোনো ভাই বা বোনকে এভাবে হারাতে না হয় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বৃহত্তর ফরিদপুরসহ কিশোরগঞ্জ এবং দেশের বহু জায়গার লোকজন আমার কাছে কমপ্লেইন নিয়ে আসে যে তাদের ২০-৩০-৪০ লাখ টাকা খরচ করে প্রলোভন দেখিয়ে, জমি-জমা বিক্রি করে সারা জীবনের উপার্জন শেষ করে তাদেরকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখানো হয়।

অনেক সময় তাদের চাকরি থাকে, অনেক সময় চাকরি থাকে না। অনেক সময় তাদেরকে জীবনও দিতে হয়। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় মাঝ সাগরে জীবন দিতে হয়। সেই জায়গায় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম, এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র এবং সরকার আপনাদের পাশে আসে। বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে আছে।

এ সময় তিতাসের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ, স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, ছোট ভাই আকাশ শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল সামদানি আজাদ, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান প্রমুখ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। গত চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারকে (২২) বিয়ে করেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে নেওয়ার কথা ছিল তিতাস শেখের।

প্রসঙ্গত, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়িতে এনে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত সৈনিক তিতাসকে।

এমআই/

মন্তব্য করুন