© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধের অবসান

শেয়ার করুন:
রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধের অবসান

ছবি- সংগৃহিত

international-desk
০৫:৪৬ পিএম | ১০ নভেম্বর, ২০২০

অবশেষে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। সেই সঙ্গে বিতর্কিত কারাবাখে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ান সেনা মোতায়েন করার পক্ষে চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে যুদ্ধরত দুই দেশ। তবে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, শুধু রাশিয়া নয়, কারাবাখে তুরস্কের সেনাও মোতায়েন করা হবে। তারা শান্তি নিশ্চিত করবে।

আনাদোল এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজেরি সরকার সম্মত হলেও আর্মেনিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর্মেনীয় সরকার যুদ্ধে একের পর এক বিভিন্ন অঞ্চল হারিয়েই চলেছে। দেশটির সেনারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রস্তাবিত চুক্তিতে যাওয়াই আমের্নিয়ার জন্য বেশি কল্যাণকর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এদিকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ রাশিয়ার প্রস্তাবিত চুক্তিকে অবিস্মরণীয় ও গৌরবজনক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, রাশিয়ার প্রস্তাব অবিস্মরণীয়। মস্কোকে ধন্যবাদ, যে তারা ন্যায় প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আজারবাইজান যুদ্ধ চায় না। কিন্তু আজারবাইজানের অধিকারভূক্ত অঞ্চল দখলে নিয়ে আর্মেনিয়া অন্যায় করেছে। কোনো ভাবেই আর্মেনিয়াকে আর কারাবাখে সহ্য করা হবে না।

তবে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার উদ্যোগ ও প্রস্তাবটি ব্যক্তিগতভাবে আমার এবং আমার দেশের জনগণের জন্য চরম বেদনাদায়ক। তবুও বিদ্যমান সামরিক পরিস্থিতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরাও রাশিয়ার সিদ্ধান্তের ‘হ্যাঁ’ বলেছি। মস্কোর চুক্তিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।

মস্কোর প্রস্তাবিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, নাগার্নো-কারাবাখে এই মুহূর্তে যার অবস্থান যেখানে, সে সেখানেই থাকবে। আর রাশিয়াার এই শর্তেই আজারবাইজানের যেন ‘পোয়া বারো’ অবস্থা।

কারণ গত এক সপ্তাহে আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর উদ্ধার করেছে আজারবাইজান। এমনকি গত রোববার তারা আর্মেনিয়ার রাজধানীর খুব কাছে পাহাড়ের ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর দখলে নিয়েছে। কাজেই আজারবাইজান বিজয় উল্লাসে মাতবে এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে চুক্তির পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ভাষণে বলেছেন, এই চুক্তি যেন পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। কোনও পক্ষই যেন আর যুদ্ধে জড়াতে না পারে, সে ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকতে হবে।

পুতিন আরও বলেন, রুশ বাহিনী শুধু শান্তির জন্য কাজ করবে। এছাড়া যুদ্ধবন্দিদের দ্রুত হস্তান্তরের কাজ অগ্রাধিকার দেবে মস্কো। এছাড়া আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সীমান্ত খুলে দেয়া হবে। যে সীমান্ত ব্লকেড তৈরি হয়েছিল, তা আর থাকবে না।

 

টাইমস/এসএন

মন্তব্য করুন