মুচু ছিশ: যে পর্বতশৃঙ্গে এখনো পা পড়েনি মানুষের
‘মুচু ছিশ’ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নয় কিংবা সব থেকে দুর্গম শৃঙ্গও নয়। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এর চূড়ায় পৌছাতে পারেনি। বর্তমানে মানুষ পৌঁছাতে পারেনি এমন পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে এটি অন্যতম। পাকিস্তানের দুর্গমতম অঞ্চল কারাকোরাম রেঞ্জের অন্তর্গত এই পর্বত চূড়ার উচ্চতা ৭ হাজার ৪৫৩ মিটার বা প্রায় ২৪ হাজার ৪৪৯ ফুট।
১৯৫৩ সালে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা হয়। এর মাত্র এক বছর পরেই মানুষের পদচিহ্ন পড়ে দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কে-টু’তেও। ১৯৫৫ সালে জয় করা হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এরপর আরও অনেক পর্বত বিজয় করা সম্ভব হলেও ‘মুচু ছিশ’ এখনো অজেয়ই রয়ে গেছে।

২০১৪ সালের আগস্টে যুক্তরাজ্যের একদল অভিযাত্রী পর্বতটির প্রায় ৬০০০ মিটার ওপর পর্যন্ত আরোহণ করতে সক্ষম হলেও এর চূড়ায় পোঁছাতে পারেনি। কারণ এর পরের পথটুকু ছিল আরও দুর্গম যা তাদেরকে সেখানেই অভিযান সেখানেই সমাপ্ত করতে বাধ্য করেছিল।
সেই অভিযাত্রী দলের একজন সদস্য ফিল ডে-বেগার। তিনি বলেন, ‘এখনো অনেক পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের বাকী রয়ে গেছে। তবে আপনি যদি সংজ্ঞায়িত করতে হলে বলতে হবে মুচু ছিশ উচ্চতম একটি শৃঙ্গ। অনেকেই আমার কাছে এর সম্পর্কে জানতে চায়, আমার মতে এটি আকর্ষণীয় কোনো পর্বতশৃঙ্গ নয়, তবে এখনো আমাদের অজানা রয়ে গেছে। সেকারণেই পর্বতারোহীদের এত আগ্রহ।’
তাদের অভিযান সম্পর্কে বেগার বলেন, ‘উপরে ওঠার পর আমরা দেখলাম আমাদেরকে সরু এবং শক্ত একটি বরফ বেয়ে এগিয়ে যেতে হবে। খুব কঠিন কিছু হয়তো নয়, কিন্তু এতটা উচ্চতায় কোনো রকম ক্যাম্প করার সুবিধা ছাড়া এতটা পথ বেয়ে উঠতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। তাই আমাদেরকে অভিযানের ইতি টানতে হলো। আমরা যখন বেস ক্যাম্পে ফিরে এলাম তখন একটানা তুষারপাত হচ্ছিল।‘

তার মতে, মুচু ছিশ নেপালের পর্বতশৃঙ্গ সমূহের থেকেও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ এখানকার অবকাঠামো এতটা উন্নত নয় কিংবা আপনি কোনো শেরপার সহায়তাও পাবেন না। এই অজেয় পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করতে গেলে আপনাকে একা একাই কাজটি করতে হবে।
সর্বশেষ ২০২০ সালের আগস্টে চেক অভিযাত্রী পাভেল কোরিনেক ও সাবেক রাজনীতিবিদ পাভেল ব্যাম মুচু ছিশ জয় করার চেষ্টা করেছেন। তবে তারাও এতে সফল হতে পারেননি।
১৯৯৯ সালে একদল স্প্যানিশ অভিযাত্রী পর্বতটির ৬,৬৫০ মিটার আরোহণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটিই এখন পর্যন্ত এই অজেয় পর্বত জয়ের সব থেকে সফল প্রচেষ্টা।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
টাইমস/এনজে/এসএন