যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৭ এএম | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫
অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর মধ্যস্থতায় রাজি হয় দুই পক্ষ। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত ঘোষণা না করা হলেও এতে রয়েছে ছয় সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির রূপরেখা। অবশ্য এরপরও থামেনি ইসরায়েলি বর্বরতা। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী, ধীরে ধীরে গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করবে তেলআবিব। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে মিশর ও কাতার এবং এতে সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন বাইডেন।
টিএ/
এদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মি মুক্তির বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছে হামাস প্রতিনিধিরা। চূড়ান্ত ও লিখিত চুক্তির জন্য আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছে হামাস।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল সীমান্তে ঢুকে সহিংসতা চালায় হামাস। জিম্মি করে আড়াইশ’র বেশি মানুষকে। এর জেরে হামাস নির্মূলে ফিলিস্তিনের গাজায় সশস্ত্র অভিযান চালায় ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা ও দক্ষিণের সীমান্তবর্তী শহর রাফাহ। বন্ধ হয়ে গেছে গাজার সব হাসপাতাল। তীব্র শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শত শত মানুষ।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন দেশটির জনগণ। নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করে তেলআবিবের রাস্তায় নেমেছেন হাজারও ইসরায়েলি। গত বছরের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নেতানিয়াহুর সরকার। ভুক্তভোগীদের পরিবারের মতে, কেবল হামাসের হাতে জিম্মি বন্দীদের মুক্তিই নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ কমাতে পারে।