সাইফের হামলার ঘটনা এখনো অমীমাংসিত
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০২ পিএম | ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের বাসায় চুরি ও ছুরি হামলার ঘটনায় পাওয়া ১৯টি আঙুলের ছাপের কোনোটি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের ছাপের সঙ্গে মেলেনি। মামলার তদন্তে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার পর এই তথ্য ওঠে এসেছে। শুরু থেকেই শরিফুলকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে ভারতীয় তথা মুম্বাই পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাই পুলিশ সাইফ আলী খানের বাড়িতে পাওয়া আঙুলের ছাপগুলো মহারাষ্ট্র রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আঙুলের ছাপ ব্যুরোতে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, এই ছাপগুলো শরিফুল ইসলামের আঙুলের ছাপের সঙ্গে মেলে না। সিআইডি জানিয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক। মুম্বাই পুলিশ আরও নমুনা পাঠিয়ে নতুন করে পরীক্ষা চালাচ্ছে।
গত ১৫ জানুয়ারি বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে ছুরি হামলার শিকার হন সাইফ আলী খান। ওই রাতে এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তার কাছে এক কোটি রুপি দাবি করেন। সাইফ বাধা দিতে গেলে হামলাকারী তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সাইফের মেরুদণ্ড থেকে ছুরিটি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, শরিফুল ইসলাম অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সাইফের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিলেন। তবে আঙুলের ছাপের সঙ্গে মিল না পাওয়ায় শরিফুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান।
শরিফুল দাবি করেছেন, সেই অর্থ জোগাড় করতেই তিনি সাইফ আলি খানের বাসায় চুরির চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ এখন সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে, যিনি শরিফুলকে জাল কাগজপত্র তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সূত্র আরও জানিয়েছে, মুম্বাই পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে পশ্চিম রেলওয়ের সাহায্য নেয়। অভিনেতার ১২ তলা ভবনে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। অভিযুক্ত বান্দ্রা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুটেজের সঙ্গে মিলে যায় এমন কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে। কারণ ভবন থেকে হামলাকারীর বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজটি স্পষ্ট ছিল না।
সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মামলা তৈরি করতে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
টিএ/