জমি দখল প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পপি, জানালেন আসল ঘটনা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫২ পিএম | ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অঙ্গনে মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এক নতুন মাত্রা ধারণ করে। সম্প্রতি নায়িকা পপি এবং তার পরিবারকে ঘিরে জমি দখল নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। পপির বিরুদ্ধে তার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে তার মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের টাকা ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালের পর থেকে পপির বাবা বেকার থাকার কারণে, পপি তার পরিবারের জন্য নিজেই সব কিছু করেছিলেন। সেই সময় থেকে পপির উপার্জন তার পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিল।
পপির দীর্ঘ ক্যারিয়ার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারকে সহায়তা করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে বহু স্থানে জমি কিনেছেন, যদিও এই অর্জনগুলি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পপির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তার ছোট বোন ফিরোজা পারভীন এবং তার মা মরিয়ম বেগম মেরি। এছাড়া জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পপি তাদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এ বিষয়ে নায়িকার বিরুদ্ধে সোমবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার বোন ফিরোজা পারভীন। বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।
পপির হাতে মারধরেরও শিকার হয়েছেন বলে জানান তার ছোট বোন ফিরোজা পারভীন। তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত কোনো কথাই শুনতে চায় না পপি। তার দাবি একটাই, জমি তার নামে লিখে দিতে হবে। কথা বলতে গেলে আমাকে মারধর করেছে এবং হুমকি দিয়ে গেছে। আমাকে মারধরের ভিডিও জিডির সঙ্গে থানায় জমা দিয়ে এসেছি।’
এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক বার্তায় পপি বলেন, ‘আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে চাচা ও বাবার কাছ থেকে ছয় কাঠা জমি কিনেছিলাম। কিন্তু এদের অত্যাচারের জন্য এখন পর্যন্ত এই জমি ভোগ করতে পারিনি। আমি কেন জমি দখল করব? আমি একবারও বলেছি যে ওই জমি নেব, আমার লাগবে! আমার উপার্জনে সারা জীবন চলেছে পুরো পরিবার। এমনকি ১৯৯৫ সাল থেকে আমিই চালাচ্ছি পরিবার। অথচ তারাই এখন আমার সম্মান নষ্ট করছে।’
এদিকে থানায় করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক ৬ কাঠা জমি দখলের নেওয়ার জন্য স্বামী আদনান উদ্দিন কামাল, কল্লোল মজুমদার ও শিপনসহ পপি ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিববাড়ি এলাকার ভাড়াটিয়া বাড়ির সামনে যান। এতে বাধা দিলে পপি ও তার স্বামী ফিরোজা পারভীনকে হুমকি দেন।
এই ঘটনাগুলো চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরকার জটিলতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও একবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। শিল্পী, তাদের পরিবার, এবং তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে।
টিএ/