© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দানের পুতুল থেকে বিলিয়ন ডলার, কেমন ছিল এই ধনকুবেরদের যাত্রা?

শেয়ার করুন:
দানের পুতুল থেকে বিলিয়ন ডলার, কেমন ছিল এই ধনকুবেরদের যাত্রা?

ছবি :সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
০২:১৫ পিএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
মায়ের কাছে বায়না ধরেছিলেন ক্রিসমাস উপহারের, খেতে চেয়েছিলেন মজাদার খাবার। তবে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া বাবা-মা ছুটছিলেন কাজের খোঁজে। সেবার তাই ক্রিসমাস কাটাতে হয়েছিল এক সন্ন্যাসীর দান করা খাবার ও পুতুলের সঙ্গে। বলছি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টকশো হোস্ট অপরাহ উইনফ্রের কথা।

জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ১২ বছর বয়সেই তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল স্যান্টা ক্লজ বলতে আসলে কিছু নেই। যদি থাকতো তবে তাকে এবং তার পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হতো না। সীমাহীন দারিদ্র্যে কাটানো শৈশব পেছনে ফেলে আজ অপরাহ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। বিশ্বজুড়ে এক নামে পরিচিত তার ‘অপরাহ শো’ টকশো।

যেখানে বাঘা বাঘা ব্যক্তিত্ব এসে সাক্ষাৎকার দেন। ব্রিটিশ রাজ পরিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট কিংবা হলিউডের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী সবার আস্থার জায়গা অপরাহ শো। সফলতার শিখরে আরোহণ করেও নিজের শেকড় ভোলেননি অপরাহ। আজও সেই সন্ন্যাসীর দেয়া খাবার এবং পুতুলকে মনে করেন সবচেয়ে দামী উপহার। শৈশবের সেই অভাবের স্মৃতিকে মনে রেখে তিনি প্রতিবছর লাখ লাখ খেলনা দান করেন।

বার্বাডোজের ছোট্ট দ্বীপে জন্ম নেয়া পপ তারকা রিহানার শৈশবও ছিল কঠিন। তার বাবা ছিলেন মাদকের প্রতি আসক্ত একজন জামাকাপড় বিক্রেতা। যতটুকু উপার্জন করতেন তার বেশি ব্যয় করতেন মাদকের পেছনে। মানবেতর সেই জীবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা আজ রিহানাকে নিয়ে এসেছে বিত্তশালীদের তালিকায়।

ছোটবেলায় মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগলেও গান গাওয়ার প্রতি ভালোবাসা এগিয়ে নিয়েছে রিহানাকে। একবার গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবং পরিচিতি পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে আটটি প্লাটিনাম অ্যালবামের মালিক এই তারকার সম্পদমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

শিল্পী, টকশো হোস্ট কিংবা মিডিয়া ব্যক্তিত্বই নয় কুঁড়েঘর থেকে প্রাসাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন আরও অনেকেই। এমনই একজন স্টারবাকস কফির মালিক হাওয়ার্ড শুলজ। তার শৈশব কেটেছে ব্রুকলিনের সরকারি বাসস্থানে। শুলজের বাবা ছিলেন ডায়াপার বিক্রেতা। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর বাবার একমাত্র আয়ের উৎস হারান শুলজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ চালানোর জন্য বারটেন্ডার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এমনকি সংসারের খরচ দিতে রক্তও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। সফল হওয়ার তাড়নায় স্থায়ী আয়ের উৎস খুঁজতে থাকা শুলজের সামনে ধরা দেয় দারুণ এক সুযোগ। ১৯৮৭ সালে মাত্র ১২টি শাখা থাকা স্টারবাকস কিনে সেটিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করেন শুলজ। বর্তমানে তার সম্পদমূল্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

যুদ্ধ থেকে বিলিয়নিয়ার হওয়ার জীবন গল্পের মালিক বব পারসনস। বাল্টিমোর শহরের দরিদ্র পরিবেশে জন্ম নেয়া পারসনসের বাবা ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং জুয়ারি। পড়াশোনায় দুর্বল পারসনস দ্বাদশ গ্রেডে ফেল করতে বসেছিলেন। এরপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সহজ পন্থা হিসেবে মার্কিন মেরিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। অংশ নেন ভিয়েতনাম যুদ্ধে।

যুদ্ধ থেকে ফিরে তিনি গো ড্যাডি নামের ওয়েব হোস্টিং প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যা পরবর্তীতে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তিনি গলফ ব্র্যান্ড পিএক্সজি, মোটরসাইকেলের ডিলারশিপ এবং বাণিজ্যিক আবাসন ব্যবসার মালিক। তার সম্পদমূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বের অনেক ধনী ব্যক্তির জীবন শুরু হয়েছিল অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। একসময় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কাটালেও কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তাঁরা শতকোটি ডলারের মালিক হয়েছেন। তাঁদের জীবনের গল্প শুধু অনুপ্রেরণার নয়, বরং বাস্তব জীবনের লড়াইয়ের অনন্য নিদর্শন।

সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন ডেভিড মার্ডক। তার বাবা ছিলেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা এবং মা লন্ড্রির দোকানের কর্মী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি এবং একটি গ্যাস স্টেশনের ছাদে বসবাস করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। ১২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার ইচ্ছাপোষণ করা মার্ডকের বর্তমান সম্পদমূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

গৃহহীনতা থেকে স্টক ব্রোকারের সফল জীবন গড়েছেন ক্রিস গার্ডনার। একসময় এতটাই দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন যে সন্তানকে নিয়ে এক রাতে পাবলিক টয়লেটে রাত কাটাতে হয়েছিল তাকে। দিনের বেলা সন্তানকে ডে কেয়ারে রেখে কাজে যেতেন, রাতে থাকতেন আশ্রয়কেন্দ্রে। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সফল স্টক ব্রোকারে পরিণত হন। তার জীবন অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দ্য পারসুইট অফ হ্যাপিনেস। বর্তমানে গার্ডনার শতকোটিপতি না হলেও, তার সম্পদমূল্য ৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

মন্তব্য করুন