ইউক্রেনে ‘টেকসই’ শান্তি না এলে ভুগবে যুক্তরাষ্ট্রও!
ছবি:সংগৃহীত
০৮:৫২ পিএম | ০৩ মার্চ, ২০২৫
ট্রাম্প ভুল করছেন। রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেই ভুল প্রমাণ করছেন। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ওভাল অফিসে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভাজনে জড়ানো ট্রাম্পের জন্যও উপকারী হবে না।’
লন্ডনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমন্ত্রণে সিকিউরিং আওয়ার ফিউচার সম্মেলনে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন ট্রুডো ও মেলোনি। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন ও ভবিষ্যৎ কৌশল ব্যক্ত করে ট্রুডো বলেন, ‘ইউক্রেন কেবল নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করছে না, তারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মৌলিক নীতিগুলোও রক্ষা করছে।’
ইউক্রেনের সমর্থনে সরাসরি কানাডা সেনা মোতায়েন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রুডো বলেন, ‘প্রত্যেক ধাপই আমরা পর্যালোচনা করছি। যেভাবে কিয়েভিকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সহায়তা করা যায়, সে চেষ্টাই চলছে। তবে, কানাডার সেনাবাহিনী সরাসরি ইউক্রেনে মোতায়েন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওভাল অফিসে ট্রাম্প-জেলেনস্কির বিবাদের বিষয়েও মুখ খুলেছেন ট্রুডো। জানান, তিনি জেলেনস্কির পাশেই আছেন। পুতিনকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদে ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে বলে শঙ্কা জানান কানাডার এই বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। ইউক্রেনের শান্তি পরিকল্পনা তৈরিতে ইউরোপীয় নেতাদের প্রস্তাবেও সমর্থন দেন ট্রুডো। জানান, ইউক্রেনের প্রতি দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা বজায় রাখতে হলে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এসময় কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিরাপত্তা সহায়তার আশা না করে তিনি ইউক্রেনকে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও পরামর্শ দেন ট্রুডো।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমি ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। কয়েকদিন আগেও কিয়েভে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা তাকে একজন প্রেসিডেন্ট, একজন নেতা এবং এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে সমর্থন করি, যিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে ইউক্রেনের জনগণকে রক্ষা করার জন্য নিবেদিত করেছেন। জেলেনস্কি গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। আমি তাকে বারবার জোর দিয়ে বলেছি যে কানাডা সবসময় ইউক্রেনের পাশে থাকবে।’
একই দিন জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তর ও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা, আটলান্টিক জোট এবং পশ্চিমা বিশ্বে বিভাজন এড়ানোর সব ধরনের উপায় নিয়েও জেলেনস্কি আলোচনা করেছেন বলে জানান মেলোনি।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সিদ্ধান্তে ইউরোপে বিভাজন নেই। সহজ ও কার্যকরী সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাবই আলোচনার টেবিলে এসেছে। তবুও আমরা যেকোনো প্রস্তাব মেনে নিতে পারি না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান।’
মেলোনি কড়া ভাষায় বলেন, ‘সার্বভৌমত্বে আঘাত ইউক্রেন সহ্য করতে পারবে না, ইউরোপ সহ্য করতে পারবে না এবং আমি বিশ্বাস করতে চাই যুক্তরাষ্ট্রও সহ্য করতে পারবে না। তাই, আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি প্রস্তাব মূল্যায়ন করতে হবে। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভক্তিতে জড়ানো কারও জন্যই উপকারী হবে না।’