তুরস্কের গ্রিস সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত
০৯:২৭ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৫
তুরস্ক তার পশ্চিম সীমান্তে সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ একটি দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে প্রতিবেশী গ্রিস ও বুলগেরিয়া নিজেদের সীমান্তে বেড়া স্থাপন করেছে। মূলত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই সীমান্ত বাধা তৈরি করা হবে। এর আগেও তুরস্ক ইরান ও সিরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করেছে।
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এদিরনে প্রদেশের গভর্নর ইউনুস সেজার জানিয়েছেন, এ বছর প্রথমবারের মতো তারা পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অবকাঠামোগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রাথমিকভাবে ৮.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, "আমরা গ্রিসের সীমান্ত থেকে কাজ শুরু করব এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই প্রকল্প আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা এভরোস নদী (তুর্কি ভাষায় মেরিচ) দিয়ে বিভক্ত।
এর আগে, ২০১২ সালে গ্রিস তুরস্কের সীমান্তে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ, তিন মিটার উঁচু কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছিল, যা আগে মাইনপূর্ণ ছিল। পরবর্তী সময়ে দেশটি বেড়াটির দৈর্ঘ্য তিন গুণ বাড়ায়। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এটি আরও ১০০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করা হবে।
বুলগেরিয়াও ২০১৪ সালে তুরস্কের সঙ্গে সীমান্তে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধারালো তারের বেড়া স্থাপন করে, যখন বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগরীয় পথ এড়িয়ে অভিবাসীরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। চার বছর পর, দেশটি প্রায় পুরো ২৫৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেড়াটি সম্প্রসারিত করে।
তুরস্কের পশ্চিম উপকূল গ্রিসের দ্বীপগুলোতে পৌঁছতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে গেলে ছয়জন প্রাণ হারান, তবে কোস্ট গার্ড ২৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
সূত্র: এএফপি
এফপি