ট্রাম্পের প্রথম কংগ্রেস অধিবেশন কেমন ছিল ?
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৩ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৫
পাগলাটে ট্রাম্পের ঘোড়া যেন লাগামহীন। একের পর এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত কান্ড ঘটিয়ে লাইমলাইটে থাকতে পছন্দ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এবার তিনি রেকর্ড করলেন দীর্ঘ সময় ভাষণ দেয়ার। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কংগ্রেসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য দিয়ে এ রেকর্ড করেন তিনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর স্থানীয় সময় ৪ মার্চ কংগ্রেসে প্রথম ভাষণ দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্বাচনি মোটো 'মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি ঘোষণা দেন , ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’। ক্ষমতায় বসার ছয় সপ্তাহ পেরোলেও এবারই প্রথম কংগ্রেস অধিবেশনে দেখা গেল ট্রাম্পকে।
তার প্রশাসনের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শত্রুভাব, আমদানি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপ, কঠোর অভিবাসী আইন, সরকারি হাজার-হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের কারণে ট্রাম্পের প্রথম কংগ্রেস ভাষণে চোখ ছিল গোটা বিশ্বের।
ট্রাম্পের পাগলাটে স্বভাবের কারণে তাকে নিয়ে বিশ্ব শঙ্কিত থাকলেও বিপরীতে বেশ উজ্জীবিত দেখা যায় এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে। সবার ধারণা ছিল ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দোদ্যুলোমান কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি কংগ্রেসে খোলাসা করবেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প তার দীর্ঘ বক্তব্যে এড়িয়ে গেছেন সে বিষয়।
ইউক্রেনের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তি সই এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলেছেন কেবল কয়েক মিনিট। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেনের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং তারা শান্তির জন্য প্রস্তুত এমন জোরালো ইঙ্গিত পেয়েছি। এটি কি চমৎকার হবে না?’ অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং তার প্রথম মেয়াদে আরব নেতাদের সঙ্গে সই করা আব্রাহাম চুক্তির পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আমদানি পণ্যে কর বাড়িয়ে আমেরিকানদের কর কমাতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটেও ভারসাম্য আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের সামনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে বেশ আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অপরাধে জর্জরিত। তার কারণেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে অপরাধে জড়াচ্ছে উল্লেখ করে তাদের ‘বর্বর’ আখ্যায়িত করেন তিনি। এ ছাড়া ‘লিঙ্গ রূপান্তরের মতাদর্শ’ নিষিদ্ধেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
টিএ/