© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তড়িঘড়ি করে মন্ত্রী পাঠিয়েও ট্রাম্পের মন গলাতে পারলেন না মোদী!

শেয়ার করুন:
তড়িঘড়ি করে মন্ত্রী পাঠিয়েও ট্রাম্পের মন গলাতে পারলেন না মোদী!

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
০৩:২৩ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৫
বাণিজ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন পেল না ভারত। দাম পায়নি ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও। ট্রাম্প সাফ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পারিক শুল্কনীতি থেকে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আর সে ঘোষণা মতেই, ২ এপ্রিল থেকে ভারতের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক চাপাবেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত শুল্ক থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের রেহাই দেয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবে গত ২ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান প্রধানমন্ত্রী মোদী। তড়িঘড়ি করে তারই সঙ্গে পাঠানো হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজেশ আগরওয়ালকে। উদ্দেশ্য ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো।

ভারত যখন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী, তখন একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্কনীতি বাস্তবায়নের আওতা থেকে ভারতকে বাইরে রাখার আর্জি জানান ট্রাম্পের কাছে। কিন্তু গোয়েলকে সেই সুযোগই দিতে চাইল না ট্রাম্প প্রশাসন। বরং পরিষ্কার করে বলেন, ‘ভারত আমাদের কোনো কোনো পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক চাপায়। তাহলে ওয়াশিংটন কেন দিল্লিকে ছাড় দেবে? এটা কিছুতেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য ন্যায্য হতে পারে না।’

মার্কিন কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের প্রথম ভাষণে অতিরিক্ত শুল্ক ও পারস্পারিক বাণিজ্য নীতির বিষয়ে ভারতের পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প। জানান, দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই ভারতের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল তার। একসময় ভারতকে তিনি ‘ট্যারিফ কিং’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ট্রাম্প দিল্লির শুল্কনীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন। সে সময়ই মোদীকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সম্পর্কের উন্নতি চায়। কিন্তু তা কখনও শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে নয়। বাণিজ্যে অশানি সংকেত তখনই টের পেয়েছিল দিল্লি। ট্রাম্পের মন পেতে তাই আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত মোটরবাইক ও হুইস্কির মতো বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক কমিয়ে দেয় মোদী সরকার।

এমনকি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব দেন নরেন্দ্র মোদী। নতুন বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতের বিশাল বাজার তাদের জন্য খুলে দেয়ার লোভও দেখান তিনি। কিন্তু তারপরও ট্রাম্প দিল্লির অস্বাভাবিক চড়া শুল্কনীতির সমালোচনা করেন।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, ‘বহুদিন ধরে বিভিন্ন দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের পালা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো, কানাডাসহ অন্য দেশ যত শুল্ক আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের রপ্তানির ওপর ঠিক ততটাই শুল্ক আরোপ করবে।’ ভারতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মোটরচালিত গাড়ির ওপর ওরা ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে। এটা মোটেই ন্যায্য নয়।’

এই পারস্পরিক শুল্কনীতি ২ এপ্রিল থেকে চালু হবে জানিয়ে ট্রাম্প মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভেবেছিলাম ১ এপ্রিল থেকেই শুল্ক চালু করব। কিন্তু তাতে মনে হতে পারে, আমি অন্যদের বোকা বানাতে চাইছি। এপ্রিল ফুল করতে চাইছি। তাই ২ এপ্রিল থেকে এই নীতি কার্যকর হবে।’ ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি মার্কিন পণ্য রপ্তানিতে অন্য ধরনের বাধা দেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও তেমন বাধা সৃষ্টি করবে। এটাই ট্রাম্পের ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতি।’

টিএ/

মন্তব্য করুন