© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খরচ কমাতে চাইছেন ট্রাম্প, সামরিক বিমানে ফেরত যাবে না অভিবাসী

শেয়ার করুন:
খরচ কমাতে চাইছেন ট্রাম্প, সামরিক বিমানে ফেরত যাবে না অভিবাসী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৭ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৫
সরকারের ব্যয় কমাতে উঠে পড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। যেভাবে পারছেন যে কয় ডলারই পারছেন তিনি সঞ্চয়ের চেষ্টা করছেন। অত্যাধিক ব্যয়ের কারণে তাই সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজে আটককৃত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ৫ মার্চ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য। এতে বলা হয়, গত ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়েই পর বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এসব আদেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নথিবিহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত একটি আদেশও ছিল। অবৈধ আটককৃতদের নিজ নিজ দেশে ফেরাতে ব্যবহার করা হচ্ছিল সামরিক বিমান।

শুধু তাই নয়, বিমানের ভেতর অভিবাসীদের হাত-পায়ে শেকল পরিয়ে রাখার ঘটনায় প্রতিবাদ করে ভারত, গুয়েতামালাসহ অন্যদেশগুলো। সবশেষ ১ মার্চ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিল ওয়াশিংটন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তরা জানান, সামনের দিনগুলোতে আর কোনো শিডিউলড বা পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইট নেই। অন্য দেশের অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠাতে বড় অংক খরচ হচ্ছে প্রশাসনের।

পেন্টাগনের এমন যুক্তিতে সামরিক বিমানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো আপাতত স্থগিত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্থায়ীভাবেই অভিবাসী ফেরাত পাঠাতে সামরিক বিমান ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এরপর থেকেই নথিবিহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় অভিযান। বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সি-১৭ এবং সি-১৩০ উড়োজাহাজ। এ দুই ধরনের সামরিক বিমানে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্য বলছে, গত ২০ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে ফের‍ত পাঠানো হয়েছে ভারত, গুয়েতেমালা, ইকুয়েডর, পেরু, হন্ডুরাস, পানামা ও গুয়ান্তানামোসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। প্রতিটি ফ্লাইটে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ ডলারের বেশি। এক হিসেবে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার নথিবিহীন অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে মাথাপিছু ব্যয় হচ্ছে অন্তত ২০ হাজার ডলার।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিবহন বিভাগ ইউএস ট্রান্সপোর্টেশন কমান্ডের তথ্য অনুসারে, সি-১৭ উড়োজাহাজটিকে ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাসদস্যদের স্থানান্তরের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। যখন এটি ফ্লাইটে থাকে, তখন প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হয় ২৮ হাজার ৫০০ ডলার। অন্যদিকে অভিবাসন বিষয়ক মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টসমস এনফোর্সমেন্টের যেসব উড়োজাহাজ রয়েছে, ফ্লাইটে থাকার সময় সেসব বিমানে প্রতি ঘণ্টায় খরচ হয় ৮ হাজার ৫০০ ডলার।

এছাড়া আরও কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বেশ কয়েক বছর আগে মেক্সিকোর সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল— কোনো মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টার মেক্সিকোর আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। এ কারণে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমা ব্যবহার করতে হচ্ছে সি-১৭ এবং সি-১৩০ বিমানগুলোতে। এতে ফ্লাইটের সময় এবং খরচ- দু’টোই বাড়ছে।

লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো উড়োজাহাজকে আর স্বাগত জানানো হবে না। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক বিমানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

টিএ/

মন্তব্য করুন