ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকে কূটনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
৫ এপ্রিল (শুক্রবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, প্রফেসর ইউনূস মোদীকে আবু সাইদের প্রতিকৃতি দেননি, কারণ “সোজা গাছ আগে কাটা পড়ে”—এই প্রাচীন চাণক্যনীতিই এর পেছনে কাজ করেছে। সরাসরি প্রতীকী বার্তা দিলে তা হতো এক ধরনের স্পষ্ট বীরত্ব, যা কূটনীতির জটিল বাস্তবতায় সব সময় কার্যকর নয়।
তিনি আরও লিখেছেন, ভারত তার রাজনীতিতে চাণক্যের দর্শন অনুসরণ করে, তাই তাকে মোকাবেলা করতে হলে সেই ভাষাতেই কথা বলতে হয়। ইউনূস তাই হিরো সাজার পথে না গিয়ে কূটনৈতিক কৌশল বেছে নিয়েছেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে আলোচনার টেবিলে আনা। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি চাণক্যের মান্ডালা তত্ত্ব এবং ইসলামী পরামর্শ অনুযায়ী চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
ভারত আলোচনায় রাজি হলো কেন? এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ইউনূস চতুরভাবে কৌটিল্যের দ্বৈতনীতির ব্যবহার করেছেন। চীনের সঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানকেও পাশে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের হাত বাড়িয়েছেন। ফলে ভারত আর এড়িয়ে যেতে পারেনি। তাছাড়া ইউনূস এরইমধ্যে সাত ভগিনীর দুঃখের কথাও তুলে ধরেছেন এবং তার সমাধানের পথও দেখিয়েছেন—যাতে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে গেছে।
এই পুরো কৌশলকে তিনি অভিহিত করেছেন “মোক্ষম ইউনূস-কূটনীতি” হিসেবে। তার মতে, দুর্বল পক্ষ সবলের ভাষা ও কৌশল এমনভাবে নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে, যাতে শক্তিশালী পক্ষ নিজের অস্ত্রকেই চিনতে পারে না—বা বুঝলেও তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। মোদী এখন সেই চাণক্যনীতির বিপরীত প্রতিফলন দেখে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছেন।
এসএস