© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

লাহোরে পরপর বিস্ফোরণ, আকাশপথ সাময়িক বন্ধ

শেয়ার করুন:
লাহোরে পরপর বিস্ফোরণ, আকাশপথ সাময়িক বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২০ পিএম | ০৮ মে, ২০২৫

<div><div>পাকিস্তানের লাহোর শহরের ওয়ালটন রোড এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ

পাকিস্তানের লাহোর শহরের ওয়ালটন রোড এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে শহরের গোপাল নগর ও নাসিরাবাদ এলাকায়, ওয়ালটন বিমানবন্দরের আশপাশে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পরপর দুই থেকে তিনটি প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে দেখা যায় ঘন ধোঁয়ার কুন্ডলী। হঠাৎ এই বিস্ফোরণে ভীত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার খোঁজে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ওয়ালটন বিমানবন্দরের কাছে ভারতীয় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনটি আনুমানিক ৫ থেকে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের ছিল এবং এটি সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। সূত্র আরও জানায়, ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জ্যাম করে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। খবর সামা নিউজের।

এছাড়াও, ড্রোনটি গোপন তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে, এবং এতে বিস্ফোরকও ছিল। সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

ঘটনার পর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ওয়ালটন রোড এলাকায় পৌঁছে যায়। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, লাহোরের আসকারি ৫ এলাকার কাছাকাছি দুইটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং নেভাল কলেজ এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এলাকাজুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে লাহোর ও সিয়ালকোট শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নোটিস টু এয়ারম্যান (নোট্যাম)-এ জানানো হয়েছে, লাহোর ও সিয়ালকোটের আকাশপথ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ)-এর একাধিক ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে। মদিনা থেকে ছেড়ে আসা একটি ফ্লাইট, যা মূলত লাহোরে অবতরণের কথা ছিল, সেটিকে করাচিতে পাঠানো হয়েছে। একইভাবে, মুলতান থেকে লাহোরগামী আরেকটি ফ্লাইটও বিলম্বের কারণে করাচিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা এবং ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, গুজরানওয়ালা ক্যান্টনমেন্টে মোতায়েন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ড্রোনটিকে লক্ষ করে গুলি চালিয়ে তা ভূপাতিত করে।

সূত্র আরও জানায়, ড্রোনটি যখন শহরের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন ক্যান্টনমেন্ট এলাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয় এবং কমপক্ষে দুটি গুলির মাধ্যমে এটিকে ভূপাতিত করে। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরে গুজরাট জেলার ডিঙ্গা গ্রামের কাছে পড়ে।

পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, ধ্বংসাবশেষের খবরে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পীর ঝাণ্ডা গ্রামের মাঠ থেকে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে যাতে ড্রোনটির মডেল ও উৎস নির্ধারণ করা যায়।

সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্রোনটির প্রকৃতি ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আরএ/টিএ

মন্তব্য করুন