© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুধের চারগুণ ক্যালসিয়াম সজনে

শেয়ার করুন:
দুধের চারগুণ ক্যালসিয়াম সজনে
feature-desk
০৯:৩৩ এএম | ৩১ আগস্ট, ২০১৯

খাদ্যরসিক বাঙালির অতিপ্রিয় ও সুস্বাদু সবজি সজনে। যার ডাঁটা, পাতা, ফুল কিছুই ফেলা যায় না। সজনের ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera। এর উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে।

খাদ্যরসিক বাঙালির অতিপ্রিয় ও সুস্বাদু সবজি সজনে। যার ডাঁটা, পাতা, ফুল কিছুই ফেলা যায় না। সজনের ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera। এর উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে।

এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। প্রায় সারা বছরই বার বার ফলন দেয়। গবেষকরা সজনে পাতাকে বলে থাকেন নিউট্রিশন্স সুপার ফুড এবং সজনে গাছকে বলা হয় মিরাক্কেল ট্রি।

পুষ্টিবিদরা পুষ্টির দিক দিয়ে সজনেকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ আখ্যায়িত করে বলেন, এ গাছটি থেকে পুষ্টি, ঔষধিগুণ ও সারা বছর ফলন পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় এটি একটি ‘মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ’।

প্রতি ১০০ গ্রাম সজনে রয়েছে শক্তি কি. ক্যাল ৪৩ গ্রাম, পানি ৮৫.২ গ্রাম, আমিষ ২.৯ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ৫.১ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ৪.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মি. গ্রাম, আয়রন ০.২ মি. গ্রাম, জিংক ০.১৬ মি. গ্রাম, ভিটামিন-এ ২৬ মি. গ্রাম, ভিটামিন-বি১ ০.০৪ মি. গ্রাম, ভিটামিন-বি২ মি. গ্রাম ০.০৪ এবং ভিটামিন-সি ৬৯.৯ মি. গ্রাম।

পুষ্টিবিদের মতে সজনে পাতা পুষ্টিগুণের আঁধার। পরিমাণের ভিত্তিতে তুলনা করলে একই ওজনের সজিনা পাতায় কমলা লেবুর ৭ গুণ ভিটামিন-সি, দুধের ৪ গুণ ক্যালসিয়াম এবং দুই গুণ আমিষ, গাজরের ৪ গুণ ভিটামিন-এ, কলার ৩ গুণ পটাশিয়াম বিদ্যমান।

বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, সজনে পাতায় ৪২% আমিষ, ১২৫% ক্যালসিয়াম, ৬১% ম্যাগনোসিয়াম, ৪১% পটাশিয়াম, ৭১% লৌহ, ২৭২% ভিটামিন-এ এবং ২২% ভিটামিন-সি সহ দেহের আবশ্যকীয় বহু পুষ্টি উপাদান থাকে।

এক টেবিল চামচ শুকনা সজনে পাতার গুঁড়া থেকে ১-২ বছর বয়সী শিশুদের অত্যাবশ্যকীয় ১৪% আমিষ, ৪০% ক্যালসিয়াম ও ২৩% লৌহ ও ভিটামিন-এ সরবরাহ হয়ে থাকে। দৈনিক ৬ চামচ সজনে পাতার গুঁড়া একটি গর্ভবতী বা স্তন্যদাত্রী মায়ের চাহিদার সবটুকু ক্যালসিয়াম ও আয়রন সরবরাহ করতে সক্ষম।

ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, সজনে গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আধুনিক বিজ্ঞানও এ ধারণাকে সমর্থন করে। সজনের কচি পড সবজি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। সজনের বাকল, শিকড়, ফুল, ফল, পাতা, বীজ এমনকি এর আঠাতেও ঔষধিগুণ আছে। সজনেকে আজকের বিশ্বে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আসুন জেনে নেই এই সুপার ফুডের আরও কিছু ঔষধিগুণ-

  • শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে সজনে গাছের শিকড়ের প্রলেপ দিলে ব্যথা ও ফোলা সেরে যায়।
  • সজনের শিকড়ের রস কানে দিলে কানের ব্যথা সেরে যায়।
  • সজনের আঠা দুধের সঙ্গে খেলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। আঠা কপালে মালিশ করলে মাথা ব্যথা সেরে যায়।
  • সজনের আঠার প্রলেপ দিলে ফোঁড়া সেরে যায়।
  • সজনে ফুলের রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মূত্রপাথরি দূর হয়। ফুলের রস হাঁপানি রোগের বিশেষ উপকারী।
  • সজনে পাতার রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেট জমা গ্যাস দূর হয়।
  • সজনে পাতা পেষণ করে তাতে রসুন, হলুদ, লবণ ও গোলমরিচ মিশিয়ে সেবন করলে কুকুরের বিষ ধ্বংস হয়।
  • পাতার শাক খেলে যন্ত্রণাদায়ক জ্বর ও সর্দি দূর হয়।
  • সজনে পাতার রসে বহুমূত্র রোগ সারে।
  • সজনের ফুল কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • সজনে ফুল দুধের সঙ্গে রান্না করে নিয়মিত খেলে কামশক্তির বৃদ্ধি ঘটে। এর চাটনি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • সজনের ফল নিয়মিত রান্না করে খেলে গেঁটে বাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
  • সজনের কচি ফল ক্রিমিনাশক, লিভার ও প্লীহাদোষ নিবারক, প্যারালাইসিস ও টিটেনাস রোগে হিতকর।
  • সজনের বীজের তেল মালিশ করলে বিভিন্ন বাত বেদনা, অবশতা, সায়াটিকা, বোধহীনতা ও চর্মরোগ দূর হয়।
  • পাতার রস হৃদরোগ চিকিৎসায় এবং রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যবহার হয়।
  • পোকার কামড়ে এন্টিসেপ্টিক হিসেবে সজিনার রস ব্যবহার করা হয়।
  • ক্ষতস্থান সারার জন্য সজিনা পাতার পেস্ট উপকারী।
  • সজনে শরীরের প্রতিরোধক ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য, ভারি ধাতু অপসারণ এবং শরীরে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি নিতে সহায়তা করে।
  • সজনে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।
  • শ্বাসকষ্ট, মাথা ধরা, মাইগ্রেন, আর্থাইটিস এবং চুলপড়া রোগের চিকিৎসায় ও সজনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

 

টাইমস/জিএস

মন্তব্য করুন