• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধ: মার্কিন গবেষণা

২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধ: মার্কিন গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৬পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালে পারমাণবিক যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। যুদ্ধ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। এর ফলে জলবায়ুর ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তাতে অনাহারে মারা যাবে বহু মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার বিবিসি একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই যুদ্ধ কীভাবে শুরু হবে তার কিছু সিনারিও বা কাল্পনিক দৃশ্যও গবেষকরা তৈরি করেছেন।

দৃশ্যকল্প ১:

ভারতীয় পার্লামেন্টে বোমা হামলা চালাবে একজন সন্ত্রাসী। নিহত হবেন ভারতীয় নেতারা। জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে প্রবেশ করে আক্রমণ চালাবে। নিজেদের রক্ষার্থে পারমানবিক বোমা ব্যবহার করবে পাকিস্তান। এরপর ভারতও তাদের পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে। দুটো দেশই তখন তাদের কাছে যত পরমাণু অস্ত্র আছে সেসব নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হবে।

দৃশ্যকল্প ২:

কাশ্মীরে আক্রমণ করবে ভারত। তারপর শুরু হয়ে যাবে পারমাণবিক যুদ্ধ। তবে উভয় দেশে যদি বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন নেতারা ক্ষমতায় থাকেন তাহলে হয়তো এরকম কিছু হবে না, এবং একারণেই এখনও পর্যন্ত সেরকম কিছু হয়নি। কিন্তু এরকম আরো নানা রকমের কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করা যায় যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. অ্যালান রোবোক বিবিসিকে বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তান তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে। শুধু সংখ্যার বিচারেই নয়, এসব অস্ত্রের বিস্ফোরণের শক্তিও তারা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে। ফলে তাদের আশঙ্কা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেই এই যুদ্ধের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।’

যুদ্ধের এসব দৃশ্যকল্প কিভাবে তৈরি করা হয়েছে? এসব কী নিছকই কিছু নাটক?

গবেষক অ্যালান রোবোক বলছেন, কিছু পেশাজীবীকে নিয়ে তারা ওয়ার্কশপ করেছেন যেখানে এসব সম্ভাব্য কারণের কথা উঠে এসেছে।

‘ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়া কয়েকজন জেনারেলকে আলাদা আলাদা দুটো কক্ষে বসিয়ে দেয়া হয়। এক পক্ষকে বলা হয় যেসব কারণে যুদ্ধ হতে পারে তার কিছু ধারণা দিতে। তারপর সেগুলো অন্য আরেকটি কক্ষে অপর গ্রুপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় সেরকম কিছু হলে তারা কী করবেন? এরকম আলোচনার ভিত্তিতেই এসব সিনারিও তৈরি করা হয়েছে।’

তবে তিনি বলেন, ‘এগুলো কিছু দৃশ্যকল্প। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো কিছু হয় না। নেতারা ঠাণ্ডা মাথায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু কখনো কখনো পরিস্থিতি তো নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে!’

কেন ২০২৫?

অধ্যাপক রোবোক বলছেন, এই যুদ্ধ যেকোনো সময়ে লাগতে পারে, হতে পারে আগামীকালও। ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোনো তথ্য থাকে না। কখন কী হবে সেটাও কেউ বলতে পারে না। সেকারণে আমরা কিছু দৃশ্যকল্প ব্যবহার করেছি কী হতে পারে সেটা বোঝার জন্যে। সেই সম্ভাবনার কথা চিত্রিত করতে আমরা শুধু একটা সময়কে বেছে নিয়েছি।’

আসলেই কি ২০২৫ সালে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে?

ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলছেন, 'এই গবেষণা একেবারেই কাল্পনিক, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। লোকেরা ভাবছেন দুটো দেশের পারমাণবিক বোমা আছে, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়, তার মানে পাঁচ ছ'বছর পর তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাবে।’

তবে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে না হলেও যেকোনো সময় এই দুটো দেশের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে।

১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান আণবিক বোমা পরীক্ষা চালিয়েছে। এর পরে গত ১১ বছর চলে গেছে। এর মধ্যে কারগিল যুদ্ধ হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেসময় এবং তারপর থেকে কখনোই আণবিক বোমা ব্যবহারের কথা উঠেনি।

এই গবেষণার সাথে একমত প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানে কায়দে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. পারভেজ হুডভাই।

তিনি বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের সম্ভাবনা সবসময়ই আছে। কোনো পরিকল্পনা থেকে নয়, বরং দুর্ঘটনাবশতই এ রকম যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। দুটো দেশের মধ্যে যদি অনন্তকাল ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে, এবং তাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকে, তাহলে তো অনেক কিছুই ঘটতে পারে।’

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের পুলওয়ামার পর বালাকোটে যা হয়েছে, পাকিস্তান ‌এর আরো কঠোর জবাব দিতে পারত। তখন ভারতও কিছু একটা করত। এরকম একের পর এক ঘটনায় উত্তেজনা এতটাই ছড়িয়ে পড়তে পারত যে পারমাণবিক যুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারত।’

তিনি আরও বলেন, ‘শীতল যুদ্ধের সময় যা হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ তার চাইতেও খারাপ। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কয়েক হাজার মাইলের দূরত্ব কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত একই, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়, ফলে উত্তেজনা শীতল যুদ্ধের চাইতেও বেশি।’

যুদ্ধের কারণ কাশ্মীর?

গবেষক অ্যালান রোবোক বলেন, ‘শুধু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়, হতে পারে ভারত ও চীনের মধ্যেও। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়ারও অনেক কারণ আছে। তবে আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছি, কারণ কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এ দুটো দেশের মধ্যে অব্যাহত বিরোধ চলছেই। সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর অতীত ইতিহাসও তাদের রয়েছে।’

তবে পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী হুডভাই মনে করেন, অন্যান্য কারণ থাকলেও কাশ্মীরই হবে প্রধান কারণ। কাশ্মীরের পরিস্থিতি যতই শান্ত করা যাবে, পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকিও ততটা কমে আসবে। দুর্ভাগ্যজনক হলো সেরকম কিছুই হচ্ছে না। এছাড়াও পরিবেশগত কিছু পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে দিতে পারে।’

‘পাকিস্তানের বেশিরভাগ পানি আসে হিমালয় থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের সব হিমবাহ গলে উধাও হয়ে গেলে কাশ্মীর পাকিস্তানের জন্যে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে পানির উৎসের জন্যে। এ নিয়ে যদি সমঝোতা না হয় তাহলে তো যুদ্ধের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।’

সাবেক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ব্যানার্জি বলছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের মতো আরো কিছু ইস্যুও যুদ্ধের কারণ হতে পারে। ২০০৮ সালে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসীরা এসে মুম্বাই-এ আক্রমণ করেছিল। এরকম আক্রমণ আবারও হলে তখন পরিস্থিতি অন্য রকমের হয়ে যেতে পারে।’

সুইডিশ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পাকিস্তানের ১৬০টি আর ভারতের আছে ১৫০টির মতো পারমাণবিক বোমা।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান ৪০০ থেকে ৫০০ পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করে ফেলবে।

 

টাইমস/এসআই

চট্টগ্রামে গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে নিহত ৭

চট্টগ্রামে গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে নিহত ৭

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় ৭ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো কমপক্ষে

চট্টগ্রামে এসেছে ১৯৮ টন পেঁয়াজ

চট্টগ্রামে এসেছে ১৯৮ টন পেঁয়াজ

বিদেশ থেকে আমদানি করা ১৯৮ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে।

কচু শাকে পুষ্টিগুণে ভরপুর

কচু শাকে পুষ্টিগুণে ভরপুর

বর্ষার শেষভাগে যখন অন্যান্য সবজি বেশী পরিমাণে পাওয়া যায় না

জাতীয়

পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, চিন্তার কারণ নেই: প্রধানমন্ত্রী

পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, চিন্তার কারণ নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিমানের কার্গোতে করে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করে নিয়ে আসছি। পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, চিন্তার আর কোনো কারণ নেই। শনিবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এ কথা বলেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এ কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন তিনি।

উক্তি প্রতিদিন

“যদি তুমি কথা বলতে ভালোবাসো তবে নিম্ন স্বরে কথা বল।”

“যদি তুমি কথা বলতে ভালোবাসো তবে নিম্ন স্বরে কথা বল।”

সক্রেটিস ছিলেন একজন গ্রিক দার্শনিক। বিশ্বে যত বড় বড় দার্শনিকের জন্ম হয়েছে তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি ৪৭০ খ্রিষ্টপূর্বে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন।

রাজনীতি

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন দায়িত্বে নির্মল-বাবু

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন দায়িত্বে নির্মল-বাবু

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি হয়েছেন নির্মল রঞ্জন গুহ, আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আফজালুর রহমান বাবু। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে তাদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয়

খেজুরের গুড়ে ভেজাল না দেওয়ার শপথ

খেজুরের গুড়ে ভেজাল না দেওয়ার শপথ

ব্র্যান্ডিং পণ্য ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় ও পাটালি উৎপাদনে ভেজাল না দেওয়ার শপথ করেন যশোরের গাছিরা। এই ঐতিহ্যবাহী গুড়-পাটালি এই জেলাকে অন্য জেলার থেকে আলাদাভাবে পরিচিত করেছে। শনিবার দুপুরে জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজ হাট ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এই শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘কেনারহাট ডট কম’ এর আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ শপথ বাক্য পড়ান। এতে যশোরের ৬০ জন গাছি অংশ নেন।

রাজনীতি

দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের না বলুন: ওবায়দুল কাদের

দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের না বলুন: ওবায়দুল কাদের

দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং টেন্ডারবাজদের না বলার জন্য নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

বিনোদন

পরিচালক বলেছিলেন নগ্ন হতে, জেনিফারের প্রশ্ন ‘কী দেখতে চান?’

পরিচালক বলেছিলেন নগ্ন হতে, জেনিফারের প্রশ্ন ‘কী দেখতে চান?’

হলিউড থেকে প্রথমে শুরু হয়েছিল ‘মি টু’ আন্দোলন। তারপর সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বলিউডেও। এরপর বলিউডে শুরু হয় একের পর এক অভিযোগ। এতে নামিদামি অনেক প্রযোজক থেকে শুরু করে পরিচালক, এমনকি নায়কই জড়িয়ে পড়ে অভিযুক্তদের তালিকায়। অন্যদিকে হলিউডে এই নিয়ে অনেক তারকা অভিযোগ করলেও চুপ ছিলেন নামকরা তারকারা। যৌন হেনস্তার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করলেও সেই অনাখাঙ্খিত অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।