প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিম ও অনিবন্ধিত মোবাইল ডিভাইসভিত্তিক অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি থেকে নাগরিকদের মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে যেদিন দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একক খাত হিসেবে বৈধ মোবাইল ফোন আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক কমানো হয়েছে, ঠিক সেদিনই রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমানোর মতো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত না জানিয়ে এ ধরনের সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি ২০২৬ এর আগে দেশে আসা সব মোবাইল ফোন (সেগুলো সচল হোক বা অবিক্রিত থাকুক) সবকটিই বৈধ করা হবে। ইতোমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান তাদের অবিক্রিত ফোনের আইএমইআই তালিকা দিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো তালিকা দেয়নি। তাদের হয়তো ভুল বোঝানো হচ্ছে অথবা বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে সবাই এনইআইআর বাস্তবায়নে শরিক হবে বলে সরকার আশা করছে।
অন্যদিকে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে সব কার্যকারিতাসহ এনইআইআর সিস্টেম চালু করেছে। তবে সিস্টেম চালুর পর মোবাইল হ্যান্ডসেটের খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। কিন্তু এনইআইআর চালুর পর মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিটিআরসিতে একাধিক দফা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে ব্যবসায়ীদের প্রথম দাবি ছিল মোবাইল ফোন আমদানির শুল্কহার কমানো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির উদ্যোগে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে সরকার মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ৬১ শতাংশ শুল্ক ছিল। তা কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবিতে মোবাইল ফোন আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়। বিটিআরসি জানিয়েছে, আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া শিথিল করা হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অরিজিনাল উৎপাদনকারীর সার্টিফিকেটের পরিবর্তে যেকোনো অনুমোদিত ডিলারের ডকুমেন্টসের ভিত্তিতে হ্যান্ডসেট আমদানির সুযোগ থাকবে। বিক্রয়–পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম এই ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে।
তৃতীয় দাবিতে অবিক্রিত বা গুদামে থাকা হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, নামমাত্র শুল্ক দিয়ে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হবে। এমনকি যেসব হ্যান্ডসেটের আমদানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সেগুলোকেও নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে।
চতুর্থ দাবিতে পুরোনো মোবাইল ফোন আমদানির অনুমতির কথা বলা হলেও বিটিআরসি জানায়, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। পুরোনো পণ্য আমদানির তালিকায় মোবাইল ফোন নেই। তাছাড়া পুরোনো হ্যান্ডসেটের মান যাচাই করা কঠিন হওয়ায় গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এনইআইআর চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু অভিযোগের জবাবে বিটিআরসি জানায়, গ্রাহকদের নামে অবৈধ বা অসংগঠিত আইএমইআই দেখানোর কারণ হচ্ছে ক্লোন, ব্যবহৃত বা রিফারবিশড হ্যান্ডসেট ব্যবহার। ভবিষ্যতে এসব আইএমইআই যেন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে না পারে, সেটিই এনইআইআর চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য।
একই এনআইডিতে বেশি সংখ্যক সিম বা হ্যান্ডসেট দেখানোর বিষয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, এনইআইআর সিস্টেমে গ্রাহকের পূর্বের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকায় এমনটি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে শুধুমাত্র সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখানোর জন্য বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে।
সিটিজেন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের সময় ওটিপি পেতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বলা হয়, অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক রেজিস্ট্রেশন অনুরোধ আসায় সাময়িক এই সমস্যা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এনইআইআর চালুর পর গ্রাহকদের যেসব সমস্যা ও জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে। যে কোনো প্রয়োজনে গ্রাহকদের নিজ নিজ মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা বিটিআরসির হটলাইন ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
এসময় আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবি/টিকে