শীতের ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীরকে সুস্থ রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে ক্লান্তি, সর্দি-কাশি ও ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে চিকিৎসকরা ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার রাখার প্রতি জোর দেন। আর এই তালিকায় সবার ওপরে থাকে খেজুর।
আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। শীতে প্রতিদিন অন্তত ৩টি করে খেজুর খেলে কী কী উপকার পাবেন, তা জেনে নিন আজকের প্রতিবেদনে।
খেজুরে উচ্চমাত্রায় ক্যালরি ও প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা শরীরের বিপাক হার বাড়িয়ে তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শীতের সকালে ৩টি খেজুর খেলে শরীর দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে উষ্ণ থাকবে এবং কাজে বাড়তি শক্তি পাওয়া যাবে।
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যারা সারা দিন দুর্বলতা বা ক্লান্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য খেজুর একটি প্রাকৃতিক পাওয়ার হাউজ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীত মানেই ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর। খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও সাইনাসের সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি
শীতে পানি কম খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে। রাতে ৩টি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানিসহ খেজুর খেলে হজমের সমস্যা দ্রুত মেটে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
শীতের সময় রক্তনালী কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায় বলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
খেজুরে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে।
খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
সকালে খালি পেটে : সারা দিন প্রাণবন্ত থাকতে সকালের নাশতার আগে খেজুর খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
দুধের সাথে : রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে ৩টি খেজুর ফুটিয়ে খেলে গভীর ঘুম হয় এবং হাড় মজবুত থাকে।
শীতকালীন সুপারফুড হিসেবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। তবে মনে রাখবেন, খেজুরে প্রচুর চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। সুস্থ থাকতে আজই আপনার শীতের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এই সস্তা অথচ মহামূল্যবান ফলটি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
এবি/এসএন