ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কেবল বিশ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্যও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের মান ভালো না হলে হার্ট, স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক, লিভার, চোখ, কিডনি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে।
তাই স্বাস্থ্যরক্ষার যাত্রায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ঘুম।
কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য চারপাশে নানা ধরনের জিনিস থাকে। সাম্প্রতিক যুগে তার সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তা সে ঘরের আলো হোক, বা মোবাইল-ল্যাপটপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে ৭টার মধ্যে রাতের খাবার সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
আমাদের দেশেও চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর খাবার খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমানো উচিত। তা ছাড়াও রাতের খাবার খাওয়ার পরই আলো কমিয়ে ফেলা উচিত। যাতে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, তারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো, যে যে গ্যাজেট থেকে ব্লু লাইট বিচ্ছুরিত হয়, সেগুলো থেকে দূরে থাকা। ঘুমের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে থেকে ফোন, ল্যাপটপ, ইত্যাদি চোখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত।
রাতে আলোয় বেশিক্ষণ তাকালে দেহের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার জন্য দেহের নিজস্ব ‘ঘড়ি’) নষ্ট হয়। তার ফলে হৃৎপিণ্ডের ওপরেও ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে। মস্তিষ্ক আলোর সংস্পর্শে রাতকে দিন বলেই মনে করে।
ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়, যা ঘুমের জন্য জরুরি। তাই শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে এসব ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু কোন রঙের আলো বেশি ব্যবহার করা উচিত ঘরে, সাদা না হলুদ, এই নিয়ে নানা রকমের দ্বন্দ্ব রয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হলুদ আলো সাদা আলোর তুলনায় কম উজ্জ্বল, তাই সেটি ব্যবহার করাই উচিত। আগেকার দিনে হলুদ আলোরই বেশি প্রভাব ছিল। কিন্তু রুচির পরিবর্তে সঙ্গে সঙ্গে সাদা ধবধবে টিউব লাইটের ব্যবহার বেড়েছে। অথচ নান্দনিকতার দিক থেকেও সাদার তুলনায় হলুদের চাহিদা বেশি। তাই ঘুমের আগে ঘরে হলুদ আলো জ্বালানো উচিত, সাদা নয়।
রাতে উজ্জ্বল আলোয় ঘুমালে মস্তিষ্ক সেই সময়টিকে দিন বলেই মনে করে। তার ফলে দেহে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তার ফলে উদ্বেগ ও অবসাদ আরো বেশি বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া ঘুমের সময়ে যেকোনো আলোই মাথার পেছনে থাকাই ভালো, যাতে সরাসরি তা চোখে না পড়ে।
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম
আরআই/টিকে