গ্রিনল্যান্ডে ভেনেজুয়েলার মতো ‘রাতারাতি দখলের’ পরিস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বদলে সরাসরি যোগাযোগ হওয়া উচিত।’
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিলসেন বলেন, ‘আমাদের দেশকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ, এবং বহু বছর ধরেই তা বজায় আছে।’
সাম্প্রতিক মার্কিন বক্তব্য ঘিরে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিতে পারে। এটি বাস্তবতা নয়। তাই আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আমরা যে ভালো সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল, সেটি পুনরুদ্ধার করা উচিত।’
নিলসেন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের উদ্বেগ আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি।’
সামরিক সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও নাকচ করেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথমেই আমি বলতে চাই, এই দেশে সম্ভাব্য বা কাল্পনিক সামরিক অভিযানের কথা বলা উপযুক্ত নয়।
তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন অবস্থায় নেই যে রাতারাতি দেশের দখল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করি।’
ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে নিলসেন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সংহতি দেখাতে হবে। আমাদের সমাজে দেখাতে হবে যে আমরা একসঙ্গে আছি। যেসব দেশের সঙ্গে আমরা মিত্র, তাদের সঙ্গেও আমাদের ঐক্য প্রদর্শন করতে হবে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ডেনমার্কের অধীন স্বশাসিত এই ভূখণ্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার একদিন পর, রবিবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নতুন করে জানান।
কেএন/টিকে