প্রবাসীদের ভোটিংয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। তিনি বলেছেন, এটা নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি এবং হতাশ হয়েছি। এই ভোট ঘুরে ফিরে পোস্টাল ব্যালটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত অভিবাসন খাতের গতি প্রকৃতি বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদুল আলম বলেন, যেখানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলতে বলতে মুখ থেকে ফেনা বের করে দেই, যেখানে অনলাইনে অ্যাপ নিয়ে এতগুলো মানুষ, সংস্থার কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেটা অন্যান্য দেশে হচ্ছে, আমাদের দেশে সেটা হচ্ছে না। কারণ স্বার্থের ব্যাপার। কার স্বার্থ এই জিনিসগুলো হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, অভিবাসীদের সঙ্গে আমাদের এয়ারপ্লেনে, আমাদের এয়ারপোর্টে যেভাবে আচরণ করে সেটা দেখেই বোঝা যায় তাদের আমরা কীভাবে দেখি। তাদের মানুষ হিসেবে দেখি এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। এই অভিবাসীগুলো যখন যায় তারা কিন্তু অনেক ত্যাগের ভিত্তিতে যায় এবং আমাদের টাকাটা পাঠায়, যেটা আমরা ভোগ করি। যেই টাকা দিয়ে আমরা এত রকমের উন্নয়ন করি। কিন্তু এই টাকাটা কত কষ্টে অর্জিত হয় সেই জিনিসটা আমরা ভুলে যাই।
প্রতি বছর তিন থেকে চার হাজার প্রবাসীর লাশ আসে মন্তব্য করে শহীদুল আলম বলেন, প্রতি বছর তিন থেকে চার হাজার লাশ বাংলাদেশে ফিরে আসে। এরা তো অনেক স্বপ্ন নিয়ে অনেক কষ্ট করে। তাই সে হয়তো জমি বেঁচে, ধার দেনা করে অনেক কষ্ট করে বিদেশে গেছে দেশে টাকা পাঠাবে। যতক্ষণ পেরেছে দেশে টাকা পাঠিয়েছে। এখন তার দেহটা ফিরে আসছে এবং সেই দেহটা কবর দেওয়ার সামর্থ্য হয়তো পরিবারের অনেক ক্ষেত্রে নেই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা দূতাবাস একটা দুর্নীতির আখড়া। দালালরা ওখান থেকে টাকা নিয়ে লেনদেন করে। দূতাবাসের ভেতরে দালাল লেনদেন করে। এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক ঘটনা। এই পরিবর্তন যতক্ষণ না হবে, ততক্ষণ এই আইন বদলাবে না।
এমকে/টিএ