একসময়ে শাহরুখ খানের ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু কিং খানের ছবিতে অভিনয়ের পরেও তাঁকে প্রায় সাত বছর কর্মহীন হয়ে জীবন কাটাতে হয়েছিল। তিনি অভিনেতা শরদ সংকলা।
শরদ সংকলা শাহরুখের ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখের দু'টি ছবিতে। একটি হল ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'বাজিগর' ছবি, যেখানে তাঁকে 'চার্লি' চরিত্রে ও ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'বাদশা' ছবিতে 'চৌকি লাল' ছবিতে দেখা গিয়েছিল।
প্রায় সাত বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ না মিললেও বর্তমানে শরদ সাঙ্কলা এই মুহূর্তে জনপ্রিয় টেলিভিশন শো 'তারক মেহতা কা উলটা চশমা'য় চুটিয়ে অভিনয় করছেন। কিন্তু হেভিওয়েট ছবিতে অভিনয় করার পরও দীর্ঘ সাত বছর কাজ না থাকার পর ফের কাজের সুযোগ কীভাবে আসে তাঁর কাছে?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শরদ সংকলা এই নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, "২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমার সেভাবে কোন কাজের সুযোগ আসেনি। আমি প্রায় কর্মহীন ছিলাম ওই সাতটা বছর। কাজের সুযোগ সেই সময় একেবারেই পাইনি।"
"তারপর একদিন আমার কলেজের এক পুরনো বন্ধু আমাকে বলে অসিত কুমার মোদি তাঁর একটি টেলিভিশন শোয়ের জন্য মুখ খুঁজছেন। সেই বন্ধুই আমার নামটি অসিতজিকে বলেছিলেন।"
"এরপর অসিতজি আমার সঙ্গে পরে যোগাযোগ করলে আমি তৎক্ষণাত রাজি হয়ে যাই সেই চরিত্রের জন্য। আমার ধৃষ্টতা ছিল না অসিত জিকে ফিরিয়ে দেওয়ার। আমি রাজি হই এবং সেই থেকেই 'তারক মেহতা কা উলটা চশমা' টিভি শোয়ে আমাকে দেখতে পাচ্ছেন দর্শক। "
এই শোয়ে অভিনেতা ২০০৮ সাল নাগাদ যোগ দেন। আর তারপর থেকে 'গোকুলধাম সোসাইটি'র তিনি একটা বড় অংশ। সতেরো বছর ধরে তাঁকে আবদুল চরিত্রে দেখছেন দর্শক।"
বলে রাখা ভালো, সাত বছর কাজ না থাকার আক্ষেপ যেমন তিনি প্রকাশ করেছেন ঠিক সেভাবেই ভালো দিকটাও তুলে ধরেছেন। শরদ সংকলা আরও বলেন, "আমি একজন হিন্দু হওয়ার পরেও যেভাবে আমাকে দর্শক একজন মুসলিম ব্যক্তির চরিত্রে গ্রহণ করেছে তা বলাই বাহুল্য।"
তিনি আপ্লুত তাঁর দর্শকের কাছ থেকে এই ভালোবাসা পেয়ে। হিন্দু ভক্তরা তো বটেই একইসঙ্গে বহু মুসলিম দর্শকও তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান। যা তাঁর কাছে এক পরম পাওয়া।"
এসকে/টিকে