বলিউডে আত্মপ্রকাশের প্রায় দুই দশক পরেও ‘ওম শান্তি ওম’ মানেই দর্শকের মনে ভেসে ওঠে দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম ঝলক। কিন্তু সেই বহুল জনপ্রিয় ছবির নেপথ্যে যে এক অজানা গল্প লুকিয়ে ছিল, তা সম্প্রতি সামনে আনলেন পরিচালক ফারাহ খান। দীপিকার অভিনয় নয়, বরং তাঁর কণ্ঠস্বরই একসময় কানে লাগত ফারাহর।
২০০৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ওম শান্তি ওম’-এ নতুন মুখ হিসেবে দীপিকাকে বেছে নিয়েছিলেন ফারাহ। পর্দায় দীপিকার সৌন্দর্য, চোখের ভাষা আর স্বপ্নময় উপস্থিতি তাঁকে মুগ্ধ করলেও অডিশনের সময় এক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল পরিচালককে। ফারাহ নিজেই জানিয়েছেন, সেই সময় দীপিকার কণ্ঠস্বর ছিল তাঁর কাছে বিরক্তিকর। দক্ষিণ ভারতের টানযুক্ত উচ্চারণ এবং স্বরের খসখসে ভাব মানিয়ে নিতে পারছিলেন না তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ফারাহ বলেন, দীপিকার মুখে এক ধরনের মাধুর্য ছিল, যা তাঁকে হেমা মালিনীর কথা মনে করিয়ে দিত। সেই কারণেই চরিত্র হিসেবে দীপিকাকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবেননি। তবে শুটিংয়ের ফুটেজ দেখার সময় তিনি অভিনব এক পন্থা নিতেন। দীপিকার দৃশ্য দেখতেন ঠিকই, কিন্তু শব্দ একেবারে বন্ধ করে। শুধু মুখের অভিব্যক্তি আর চোখের ভাষার উপর ভরসা রেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সময় বদলেছে, বদলেছে দীপিকার অবস্থানও। একসময় যে কণ্ঠস্বর নিয়ে হাসি-ঠাট্টা আর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই কণ্ঠই আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। কয়েক মাস আগে একাধিক দেশে মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কণ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দীপিকা। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই বলেছেন, বিষয়টি তাঁর কাছেও বেশ মজার। অভিনয়জগতে পা রাখার পর যেই কণ্ঠ নিয়ে এত কথা শুনতে হয়েছিল, সেই কণ্ঠই আজ প্রযুক্তির দুনিয়ায় পরিচয়ের কারণ।
দীপিকার এই যাত্রাপথ যেন বলিউডের চেনা গল্পই বলে। শুরুতে সীমাবদ্ধতা, সমালোচনা আর সংশয়। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দুর্বলতাকেই শক্তিতে বদলে নেওয়া। ফারাহ খানের স্মৃতিচারণায় ফের একবার প্রমাণ হল, সাফল্যের শুরুর গল্পগুলো অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
পিআর/টিকে