জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, সোনা আমদানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবো। যদি কোনো ব্যবসায়ী সোনা বা কাঁচামাল আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করেন, তবে তিনি শুল্ক ফেরতের সুবিধা পাবেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এনববিআর চেয়ারম্যান।
এদিন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, সোনা আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার থাকায় দুবাই ও সিঙ্গাপুরের চেয়ে প্রতি ভরিতে দামে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতারা দেশ থেকে সোনা না কিনে বিদেশমুুখী হচ্ছেন।
এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, আগামী বাজেটে সোনা খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। স্বর্ণনীতি নিয়ে এনবিআরের তিনজন প্রথম সচিব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, সোনা আমদানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবো। যদি কোনো ব্যবসায়ী সোনা বা কাঁচামাল আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করেন, তবে তিনি শুল্ক ফেরতের সুবিধা পাবেন। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নিয়ম।
এনবিআর চেয়ারম্যানকে বাজুস সভাপতি বলেন, দেশে হাতে তৈরি এবং হালকা অলংকার তৈরি হয়। অথচ সঠিক নীতির অভাবে আমরা তা রপ্তানি করতে পারছি না। একসময় তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারে কয়েক লাখ স্বর্ণশিল্পী ছিলেন। যা এখন কমে মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোগ না নিলে এই শিল্প মসলিন শাড়ির মতো জাদুঘরে চলে যাবে।
বাজুস সহ-সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী এ সময় বলেন, স্বর্ণ নীতিমালা খুবই জরুরি। ২০১৮ সালের পর ২০২১ সালে তা সংশোধিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ ও পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে নীতিমালা সংশোধন প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন নীতির কারণে ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছভাবে কাজ করতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে ১৮টি ডিলারশিপ লাইসেন্স দেওয়া হলেও বেশিরভাগই এখন অকার্যকর, আমদানি প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে।
অনুষ্ঠানে বাজুসের পক্ষ থেকে দেশের সোনার বাজার সহনীয় রাখতে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুয়েলারি বিক্রয়ে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ, সোনা আমদানির অনুমোদন ও খালাস সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া, নিষ্ক্রিয় লাইসেন্সধারীদের বাদ দিয়ে আমদানিকারকের পরিধি বাড়ানো, রপ্তানি প্রণোদনা হিসেবে শুল্ক ফেরতের সুবিধা দেওয়া ও সোনা শিল্পে উৎস কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।
এসএস/টিএ